ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য ‘লাইফ সাপোর্টে’ : গুতেরেস

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১ ২৪৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি ঋণ স্বীকার রয়টার্স

উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য ‘লাইফ সাপোর্টে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনি গুতেরেস। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে পহেলা নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলন শুক্রবার হয়েছে। একটা লম্বা সময় ধরে চলা এই সম্মেলনে পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টার কতটা উদ্যোগ প্রয়োজন এবং সেই বিষয়ে আদৌ কোন ফলপ্রসূ চুক্তি না হওয়া নিয়ে আশঙ্কা থেকেই রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের এমন মন্তব্য।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থাকে গুতেরেস বলেছেন, উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’। শুক্রবার শেষ হওয়া  সম্মেলনে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ ‘যথেষ্ট পরিমাণ’ কমাতে সরকারগুলোর অঙ্গীকার দেখা যাবে না বলেও আশঙ্কা ছিলো তার।

বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফসিল ফুয়েল বা কয়লা বা তেলের মত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় যে পরিমাণ ক্ষতিকারক গ্যাস পরিবেশে ছড়িয়েছে, তার প্রভাবে ক্রমাগত পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। আর এর পরিণতিতে আবহাওয়া দিনকে দিন চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠছে। বাড়ছে তাপমাত্রা, পুড়ছে জঙ্গল,   বেড়েছে বন্যা এবং সাইক্লোনের প্রকোপ ।

গত দশকে পৃথিবীতে যে তাপমাত্রা ছিল তার নজির লিখিত রেকর্ডে নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব হবার কারণ বিশ্বের জলবায়ু বদলে যাচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের গতি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ। বিশ্বের ২০০টি দেশকে বলা হচ্ছে পরিবেশে কার্বন নি:সরণ কমাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাদের কর্ম-পরিকল্পনা কী, তা গ্লাসগোর সম্মেলনে জানাতে।

অথচ বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে সর্বোচ্চ দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে লক্ষ্য, তা পূরণে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব নেতাদের ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কার মধ্যেই শেষদিনে পড়েছে গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলন।


এই সম্মেলনে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি তাতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনি গুতেরেসও ‘হতাশ’ বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। এর আগে কপ২৬ এর প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা সম্মেলন শেষ হওয়ার আগে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছিলেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক প্রভাব এড়ানো যাবে।

২০১৫ সালে প্যারিসে বিশ্বনেতারা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি (প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে) দেড় থেকে দুই ডিগ্রির মধ্যে রাখার চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ হিসেব বলছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন আমলের চেয়েও ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশিতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য ‘লাইফ সাপোর্টে’ : গুতেরেস

আপডেট সময় : ১১:২৪:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১

ছবি ঋণ স্বীকার রয়টার্স

উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য ‘লাইফ সাপোর্টে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনি গুতেরেস। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে পহেলা নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলন শুক্রবার হয়েছে। একটা লম্বা সময় ধরে চলা এই সম্মেলনে পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টার কতটা উদ্যোগ প্রয়োজন এবং সেই বিষয়ে আদৌ কোন ফলপ্রসূ চুক্তি না হওয়া নিয়ে আশঙ্কা থেকেই রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের এমন মন্তব্য।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থাকে গুতেরেস বলেছেন, উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’। শুক্রবার শেষ হওয়া  সম্মেলনে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ ‘যথেষ্ট পরিমাণ’ কমাতে সরকারগুলোর অঙ্গীকার দেখা যাবে না বলেও আশঙ্কা ছিলো তার।

বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফসিল ফুয়েল বা কয়লা বা তেলের মত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় যে পরিমাণ ক্ষতিকারক গ্যাস পরিবেশে ছড়িয়েছে, তার প্রভাবে ক্রমাগত পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। আর এর পরিণতিতে আবহাওয়া দিনকে দিন চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠছে। বাড়ছে তাপমাত্রা, পুড়ছে জঙ্গল,   বেড়েছে বন্যা এবং সাইক্লোনের প্রকোপ ।

গত দশকে পৃথিবীতে যে তাপমাত্রা ছিল তার নজির লিখিত রেকর্ডে নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব হবার কারণ বিশ্বের জলবায়ু বদলে যাচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের গতি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ। বিশ্বের ২০০টি দেশকে বলা হচ্ছে পরিবেশে কার্বন নি:সরণ কমাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাদের কর্ম-পরিকল্পনা কী, তা গ্লাসগোর সম্মেলনে জানাতে।

অথচ বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে সর্বোচ্চ দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে লক্ষ্য, তা পূরণে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব নেতাদের ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কার মধ্যেই শেষদিনে পড়েছে গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলন।


এই সম্মেলনে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি তাতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনি গুতেরেসও ‘হতাশ’ বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। এর আগে কপ২৬ এর প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা সম্মেলন শেষ হওয়ার আগে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছিলেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক প্রভাব এড়ানো যাবে।

২০১৫ সালে প্যারিসে বিশ্বনেতারা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি (প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে) দেড় থেকে দুই ডিগ্রির মধ্যে রাখার চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ হিসেব বলছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন আমলের চেয়েও ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশিতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।