ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস সেনাবাহিনীর নির্বাচিত হলে ‘নবিজির ন্যায়ের’ ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার তারেক রহমানের যে কারণে  সিলেট থেকেই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে পুণ্যভূমি সিলেট থেকে নির্বাচনী মাঠে নামলেন তারেক রহমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রা বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইস্যুতে আজ কী সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি? ২২ জানুয়ারী মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫৪তম বার্ষিকী বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট: কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর

‘অপারেশন এক্স’ বইয়ের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ নভেম্বর ২০২১ ৪২২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

`বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে নৌ-কমান্ডোরা চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে একযোগে অ্যাটাক করা হয়েছিলো। যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন জ্যাকপট’। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ নৌকমান্ডো অভিযানের ঘটনাবলী নিয়ে ‘অপারেশন এক্স’ বইয়ের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে’

বইটি লিখেছেন ভারতের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এম এন আর সামন্ত এবং ইন্ডিয়া টুডের নির্বাহী সম্পাদক সন্দীপ উন্নিথান। ভারতীয় হাইকমিশনের তরফে পাঠানো সংবাদবার্তায় এতথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ

ক ম মোজাম্মেল হক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই বীরত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেয়া ভারতীয় ও বাংলাদেশী প্রবীণ সেনারা এবং সহ-লেখক সন্দীপ উন্নিথান। সংবাদ বার্তায় আরও বলা হয়, নৌ-কমান্ডো অপারেশনটির পরিকল্পনা করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান

অ্যাডমিরাল এসএম নন্দা ও ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে ভাইস অ্যাডমিরাল) মিহির কে. রায়। এই অভিযানকে বাস্তবে রূপদান করেছিলেন ক্যাপ্টেন এমএনআর সামন্ত। এই অভিযানের জন্য চারশ পঞ্চাশ জনেরও বেশি নৌ-কমান্ডোকে ভারতে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। তাদের কাজ ছিল কমান্ডো অভিযান চালিয়ে নৌযান, জেটি এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো ধ্বংস করে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া।

নেভাল কমান্ডো অপারেশন এক্স বা এনসিও (এক্স) ছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর অংশ, যার অধীনে মুক্তিবাহিনীর গোপন প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্বে পরিচালিত বৃহত্তম গোপন অভিযান। ৪৮ বছর ধরে অপ্রকাশিত থাকা এই গল্পটি প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। ক্যাপ্টেন এমএনআর সামন্তের ব্যক্তিগত নোট এবং অপারেশনে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় নৌসেনাদের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে সংকলিত হয়েছে।

সংবাদ বার্তায় বলা হয়, সেসময় চারশ পঞ্চাশ জনেরও বেশি নৌ-কমান্ডোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছিল যাতে নৌযান, জেটি এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো ধ্বংস করে পাকিস্তানি সামরিক ও খাদ্য সরবরাহ লাইনগুলিকে ব্যাহত করে দেয়া যায়। যাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিজেদের জন্য পুনরায় রসদ যোগান দিতে না পারে। শেষ পর্যন্ত ১৩ দিনের মধ্যেই তাদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করতে হয়। কমান্ডো অপারেশনের পাশাপাশি,

বইটিতে গানবোট পদ্মা এবং পলাশ দ্বারা মংলা বন্দরে অভিযানের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর দেয়া গানবোট দু’টিতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেরই নাবিক ছিলেন।

নেভাল কমান্ডো অপারেশন এক্স বা এনসিও(এক্স) ছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর অংশ, যার অধীনে মুক্তিবাহিনীর গোপন প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। সামগ্রিকভাবে, ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে কমান্ডোরা এক লাখ টন শত্রু নৌযান ডুবিয়ে সক্ষম হয়ং। একারণে পূর্ব পাকিস্তানের বন্দরগুলি সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

প্রকৃতপক্ষে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্বে পরিচালিত বৃহত্তম গোপন অভিযান। ৪৮ বছর ধরে অপ্রকাশিত থাকা এই গল্পটি প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। ক্যাপ্টেন এম এন আর সামন্তের ব্যক্তিগত নোট এবং অপারেশনে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় নৌসেনাদের এবং

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে সংকলিত হয়েছে। প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক সন্দীপ উন্নিথান একটি পাঠযোগ্য, উত্তেজনাপূর্ণ গতিময় ভাষায় বইটি সহ-লিখন করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘অপারেশন এক্স’ বইয়ের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ নভেম্বর ২০২১

`বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে নৌ-কমান্ডোরা চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে একযোগে অ্যাটাক করা হয়েছিলো। যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন জ্যাকপট’। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ নৌকমান্ডো অভিযানের ঘটনাবলী নিয়ে ‘অপারেশন এক্স’ বইয়ের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে’

বইটি লিখেছেন ভারতের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এম এন আর সামন্ত এবং ইন্ডিয়া টুডের নির্বাহী সম্পাদক সন্দীপ উন্নিথান। ভারতীয় হাইকমিশনের তরফে পাঠানো সংবাদবার্তায় এতথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ

ক ম মোজাম্মেল হক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই বীরত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেয়া ভারতীয় ও বাংলাদেশী প্রবীণ সেনারা এবং সহ-লেখক সন্দীপ উন্নিথান। সংবাদ বার্তায় আরও বলা হয়, নৌ-কমান্ডো অপারেশনটির পরিকল্পনা করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান

অ্যাডমিরাল এসএম নন্দা ও ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে ভাইস অ্যাডমিরাল) মিহির কে. রায়। এই অভিযানকে বাস্তবে রূপদান করেছিলেন ক্যাপ্টেন এমএনআর সামন্ত। এই অভিযানের জন্য চারশ পঞ্চাশ জনেরও বেশি নৌ-কমান্ডোকে ভারতে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। তাদের কাজ ছিল কমান্ডো অভিযান চালিয়ে নৌযান, জেটি এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো ধ্বংস করে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া।

নেভাল কমান্ডো অপারেশন এক্স বা এনসিও (এক্স) ছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর অংশ, যার অধীনে মুক্তিবাহিনীর গোপন প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্বে পরিচালিত বৃহত্তম গোপন অভিযান। ৪৮ বছর ধরে অপ্রকাশিত থাকা এই গল্পটি প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। ক্যাপ্টেন এমএনআর সামন্তের ব্যক্তিগত নোট এবং অপারেশনে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় নৌসেনাদের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে সংকলিত হয়েছে।

সংবাদ বার্তায় বলা হয়, সেসময় চারশ পঞ্চাশ জনেরও বেশি নৌ-কমান্ডোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছিল যাতে নৌযান, জেটি এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো ধ্বংস করে পাকিস্তানি সামরিক ও খাদ্য সরবরাহ লাইনগুলিকে ব্যাহত করে দেয়া যায়। যাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিজেদের জন্য পুনরায় রসদ যোগান দিতে না পারে। শেষ পর্যন্ত ১৩ দিনের মধ্যেই তাদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করতে হয়। কমান্ডো অপারেশনের পাশাপাশি,

বইটিতে গানবোট পদ্মা এবং পলাশ দ্বারা মংলা বন্দরে অভিযানের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর দেয়া গানবোট দু’টিতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেরই নাবিক ছিলেন।

নেভাল কমান্ডো অপারেশন এক্স বা এনসিও(এক্স) ছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর অংশ, যার অধীনে মুক্তিবাহিনীর গোপন প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। সামগ্রিকভাবে, ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে কমান্ডোরা এক লাখ টন শত্রু নৌযান ডুবিয়ে সক্ষম হয়ং। একারণে পূর্ব পাকিস্তানের বন্দরগুলি সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

প্রকৃতপক্ষে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্বে পরিচালিত বৃহত্তম গোপন অভিযান। ৪৮ বছর ধরে অপ্রকাশিত থাকা এই গল্পটি প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। ক্যাপ্টেন এম এন আর সামন্তের ব্যক্তিগত নোট এবং অপারেশনে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় নৌসেনাদের এবং

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে সংকলিত হয়েছে। প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক সন্দীপ উন্নিথান একটি পাঠযোগ্য, উত্তেজনাপূর্ণ গতিময় ভাষায় বইটি সহ-লিখন করেছেন।