ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

ভারতের গুরগাঁও শহরের ৮ এলাকায় প্রকাশ্যে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর ২০২১ ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের গুরগাঁও শহরের ৮ এলাকায় প্রকাশ্যে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নগর প্রশাসন। বুধবার (৩ নভেম্বর) প্রশাসনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

অবশ্য বিবিসি বাংলার দিল্লি প্রতিনিধি শুভজ্যোতি ঘোষ ২০১৮ সালের ৩ মে এক প্রতিবেদনে বলেছেন, গুরগাঁওতে ‘সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি’ নামে একটি সংগঠন জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখায়। তাদের দাবি ছিল, গুরগাঁওতে হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকার আশেপাশে যে সব খোলা জমি আছে সেখানে মুসলিমদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, শিবসেনা, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, ভারত বাঁচাও অভিযান, অখিল ভারতীয় হিন্দু ক্রান্তি দল ইত্যাদি মোট বারোটি কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন একজোট হয়ে এই সমিতিটি গঠন করেছে। হিন্দু ক্রান্তি দলের নেতা রাজীব মিত্তাল বলছেন, এখানে আসলে দুটো সমস্যা আছে। প্রথমে তো মুসলিমরা নামাজ পড়ার নাম করে সরকারি জমি দখল করে নিচ্ছে। আর আমাদের যে হিন্দু ছেলেরা নিজেদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার জন্য লড়ছে তাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

বুধবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরগাঁও নগর প্রশাসন কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ ও ঈদগাহের বাইরে মোট ৩৭ টি খোলা স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে এই ৩৭ টি স্থানের ৮ টিতে নামাজ আদায়ের জন্য না যেতে মুসলিমদের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এতদিন গুরগাঁওয়ের মুসলিমরা মসজিদ, ঈদগাহ ছাড়াও এই ৩৭টি স্থানে জুমার নামাজ পড়তেন। মঙ্গলবার প্রশাসনের আদেশের পর এই সংখ্যা বর্তমানে নেমে এসেছে ২৯টিতে। যে ৮টি স্থান প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে তার ৪টিই গুরগাঁওয়ের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা ৪৯ নম্বর সেক্টরে। এছাড়া জাকারান্দা মার্গ অঞ্চলের ডিএলএফ এলাকায় ৩ টি এবং সুরাট নগর অঞ্চলে ১ টি স্থান রয়েছে এই তালিকায়।

গুরুগাঁও পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার আমান যাদব এনডিটিভিকে বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব এলাকার অমুসলিম বাসিন্দারা প্রকাশ্যে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা প্রতিবাদী সমাবেশও করেছেন। সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে এ রকম এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আমান যাদব।

গুরুগাঁওয়ের ডেপুটি কমিশনার ইয়াশ গার্গ বিষয়টি স্বীকার করে এনডিটিভিকে বলেন, মসজিদ, ঈদগাহ এবং ২৯ টি এলাকায় আপাতত মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায়ে কোনো বাধা নেই। তবে মসজিদ ও ঈদগাহর বাইরে যে ২৯ টি স্থানে এখনও জুমার নামাজ আদায় হচ্ছে, কোনো এলাকার বাসিন্দারা আপত্তি জানালে সেখানেও একই আদেশ জারি করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভারতের গুরগাঁও শহরের ৮ এলাকায় প্রকাশ্যে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর ২০২১

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের গুরগাঁও শহরের ৮ এলাকায় প্রকাশ্যে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নগর প্রশাসন। বুধবার (৩ নভেম্বর) প্রশাসনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

অবশ্য বিবিসি বাংলার দিল্লি প্রতিনিধি শুভজ্যোতি ঘোষ ২০১৮ সালের ৩ মে এক প্রতিবেদনে বলেছেন, গুরগাঁওতে ‘সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি’ নামে একটি সংগঠন জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখায়। তাদের দাবি ছিল, গুরগাঁওতে হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকার আশেপাশে যে সব খোলা জমি আছে সেখানে মুসলিমদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, শিবসেনা, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, ভারত বাঁচাও অভিযান, অখিল ভারতীয় হিন্দু ক্রান্তি দল ইত্যাদি মোট বারোটি কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন একজোট হয়ে এই সমিতিটি গঠন করেছে। হিন্দু ক্রান্তি দলের নেতা রাজীব মিত্তাল বলছেন, এখানে আসলে দুটো সমস্যা আছে। প্রথমে তো মুসলিমরা নামাজ পড়ার নাম করে সরকারি জমি দখল করে নিচ্ছে। আর আমাদের যে হিন্দু ছেলেরা নিজেদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার জন্য লড়ছে তাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

বুধবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরগাঁও নগর প্রশাসন কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ ও ঈদগাহের বাইরে মোট ৩৭ টি খোলা স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে এই ৩৭ টি স্থানের ৮ টিতে নামাজ আদায়ের জন্য না যেতে মুসলিমদের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এতদিন গুরগাঁওয়ের মুসলিমরা মসজিদ, ঈদগাহ ছাড়াও এই ৩৭টি স্থানে জুমার নামাজ পড়তেন। মঙ্গলবার প্রশাসনের আদেশের পর এই সংখ্যা বর্তমানে নেমে এসেছে ২৯টিতে। যে ৮টি স্থান প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে তার ৪টিই গুরগাঁওয়ের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা ৪৯ নম্বর সেক্টরে। এছাড়া জাকারান্দা মার্গ অঞ্চলের ডিএলএফ এলাকায় ৩ টি এবং সুরাট নগর অঞ্চলে ১ টি স্থান রয়েছে এই তালিকায়।

গুরুগাঁও পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার আমান যাদব এনডিটিভিকে বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব এলাকার অমুসলিম বাসিন্দারা প্রকাশ্যে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা প্রতিবাদী সমাবেশও করেছেন। সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে এ রকম এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আমান যাদব।

গুরুগাঁওয়ের ডেপুটি কমিশনার ইয়াশ গার্গ বিষয়টি স্বীকার করে এনডিটিভিকে বলেন, মসজিদ, ঈদগাহ এবং ২৯ টি এলাকায় আপাতত মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায়ে কোনো বাধা নেই। তবে মসজিদ ও ঈদগাহর বাইরে যে ২৯ টি স্থানে এখনও জুমার নামাজ আদায় হচ্ছে, কোনো এলাকার বাসিন্দারা আপত্তি জানালে সেখানেও একই আদেশ জারি করা হবে।