প্রসঙ্গ : বাংলাদেশ ও ভারতের মৈত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ ৩৭১ বার পড়া হয়েছে
“বহুবার বাংলাদেশ যাওয়াতে যে অভিজ্ঞতা উপলব্ধ হয়েছে, তাতে বুঝেছি, চৈতন্যে উন্নিত একটি যুবক দেশ গট্ গট্ করে সামনে পা ফেলে হাঁটছে। সে যুবকের লক্ষ্য কেবলই অসাম্প্রদায়িক সর্বধর্মের সমন্বয় ও শ্রদ্ধার দ্বারা তৈরি শান্তির নীড় গঠন”
দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি পুজো মণ্ডপে কিছু দুষ্কৃতকারীর কুকর্মের ফলে গোটা বাংলাদেশকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশেই কেবল নয়,
প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র ভারতেও লেখক, বুদ্ধিজীবী ও শিল্পমাধ্যমে জড়িত দুই বাংলার অসংখ্য পোস্টে মানবিক আবেদনে মানুষ দেখা গিয়েছে।
একটু চিন্তা করবো আমরা। একটু ভাববো আমরা-মানুষই মানুষের পরিপুরক, এই তো ধর্ম! ধর্ম প্রসঙ্গে শঙ্করাচার্য থেকে পরমহংসদেব, হজরত মুহাম্মদ থেকে গৌতমবুদ্ধ সকলেরইতো মূল
কথা, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। তবু, কেনো এই অতি ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি হলো-এই প্রশ্নের উত্তর আমরা দিতে পারিনা। আমরা দিতে পারিনা এই প্রশ্নের উত্তর যে, হাজার
বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে হেয় ও পর্যুদস্ত করবার জন্য যে স্বার্থান্বেষী মহল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, দেশটির অভ্যন্তরে বসবাসকারী-এরা কারা?
বহুবার বাংলাদেশ যাওয়াতে যে অভিজ্ঞতা উপলব্ধ হয়েছে, তাতে বুঝেছি, চৈতন্যে উন্নিত একটি যুবক দেশ গট্ গট্ করে সামনে পা ফেলে হাঁটছে। সে যুবকের লক্ষ্য কেবলই অসাম্প্রদায়িক
সর্বধর্মের সমন্বয় ও শ্রদ্ধার দ্বারা তৈরি শান্তির নীড় গঠন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা সবসময়ই দেশকে গড়ার কাজে পাশের ও বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সহমর্মিতা আশা করেছেন। ভারতও
হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সবসময়ই। আর সেই মর্মে তৈরি হয়েছে উভয় দেশের মৈত্রী এবং অবিচ্ছেদ্যতা। এতসব কিছু একদিনে হয়নি। এগুলো দীর্ঘ অনুশীলন প্রক্রিয়ার দ্বারা পশুত্বের নির্মুলতা ও দেবত্বের পরম প্রকাশের চর্চার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। সে হিসেবে বলতে গেলে নব্য
একটি দেশ অচিরেই বিশ্বে যেভাবে বিশেষ জায়গায় পৌঁছে গেছে, তা নজিরবিহীন। বাংলাদেশ গঠন ও বর্তমান সময় পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সেই রাষ্ট্রের সম্পর্কও এতো সৌন্দর্যমণ্ডিত, যা অনেক রাষ্ট্র আশাই করতে পারেনা!

এমন সৌন্দর্যে আঘাত হানার জন্য যে দুষ্কৃতকারীরা ধর্মকে জিগির করে পুঁজিবাদের শক্তিকে শানাতে চাইছে, তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থেকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড তৈরি হয়েছে। তৈরি রয়েছে উভয় রাষ্ট্রেই, এইসব অপশক্তিকে রুখে দেবার জন্য অজস্র বৌদ্ধিক জনমানস। দেশের বৌদ্ধিক
জনগন আশা রাখেন যে, অচিরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কঠোর দিগদর্শনে এই কালো অধ্যায়ের পূর্ণ সময়ের জন্য পরিসমাপ্তি ঘটবে।
আগেই বলেছি বহুবার বাংলাদেশ সফর এবং লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যি, শিল্পী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে। একটি মানবতাবাদি দেশ বাংলাদেশ, একটি সম্প্রদায়িক
সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ, অন্তত এই কথাটি আমি সচেতনভাবেই চিৎকার করে বলতে পারি। ওইতো আগেই বলেছি, এই পরিবেশ নষ্ট করতেই লুকিয়ে থাকে একটি সুযোগ সন্ধ্যা গোষ্ঠী।
আমরাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো শেখ হাসিনার বাংলায় সাম্প্রদায়িকতা মাথা জাগাতে পারবে না এবং তা প্রতিহত হবেই। আবহমানকাল ধরে যে পরিচিত দৃশ্য ‘সকল ধর্মের মানুষের কাধে কাধ মিলিয়ে চলা’ সেই দৃশ্য ফিরবে শেখ হাসিনার হাত ধরে আবহমান বাংলায়।
সংবাদমাধ্যমে দেখতে পেলাম ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের পুর্ণবাস, বাড়ি ঘর তৈরি করা এবং সকল ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে সহিংসতার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, সংসদ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের
দেশব্যাপী ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যে কোন সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা রোধ করতে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ এবং কাউকে তা নস্যাৎ করতে দেওয়া হবে না।’


























