ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ভারত ও নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ ৪০৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি: সংগৃহীত

নিম্নচাপ আর টানা বৃষ্টির জেরে নেপাল ও ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তার সঙ্গে ভূমিধস। বিপর্যস্ত হিমালয়ের পাদদেশ। বন্যা ও ধসের ফলে এই দু’দেশে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।

নদীর জলও বইছে বিপদ সীমার উপর দিয়ে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। দেশ দু’টিতে প্রতিদিনই নতুন মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে মৃতের

সংখ্যা বেড়ে ৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের বন্যা ও ভূমিধসে সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ৫৫ জন। আর কেরালার রাজ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য

অনুযায়ী, সেখানকার চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৫ জন। দার্জিলিংয়ে কাদা, পাথর ও পানির তোড়ে প্রায় ৪০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে আটকা পড়েছেন অনেক পর্যটক।

নেপালের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, কয়েকটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে তাদের বাড়িসহ মাটিচাপা পড়েছে এবং দুই তরুণী ভেসে গেছে। পূর্বাভাসে আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জানানো

রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। বন উজাড়, ক্ষয়ক্ষতি ও অত্যধিক

উন্নয়নের কারণে জলবায়ু পরিস্থিতির বিপর্যয় আরও বেড়ে গিয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা দ্বিজেন ভট্টরাই বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যদেরকে মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার নেপালে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে নতুন করে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তা দিল কুমার তামাং বলেন, ভারতের সীমান্তসংলগ্ন নেপালের

পূর্বাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চথারে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম নেপালের ইলমে ১৩ জন ও দোতিতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বন্যাজনিত পরিস্থিতিতে আরও ২২ জন আহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২৬ জন।

বুধবার ভারতের উত্তরাখন্ডের রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকালে নৈনিতালে ভারী বর্ষণের পর বেশ কয়েকটি ভূমিধস হয়েছে। এদিন সাতটি আলাদা ঘটনায় অঞ্চলটিতে কমপক্ষে

৩০ জন নিহত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তা প্রদীপ জৈন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিধসের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় আলমোরা জেলায় অপর একটি ভূমিধসের ঘটনায় একটি বাড়ির পাঁচ বাসিন্দা প্রাণ হারায়।

ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত সোমবার উত্তরাখন্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরে সেসব এলাকায় বন্যা ও ভূমিধস হয়।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি এলাকা প্লাবিত হবার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভারত ও নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

নিম্নচাপ আর টানা বৃষ্টির জেরে নেপাল ও ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তার সঙ্গে ভূমিধস। বিপর্যস্ত হিমালয়ের পাদদেশ। বন্যা ও ধসের ফলে এই দু’দেশে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।

নদীর জলও বইছে বিপদ সীমার উপর দিয়ে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। দেশ দু’টিতে প্রতিদিনই নতুন মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে মৃতের

সংখ্যা বেড়ে ৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের বন্যা ও ভূমিধসে সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ৫৫ জন। আর কেরালার রাজ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য

অনুযায়ী, সেখানকার চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৫ জন। দার্জিলিংয়ে কাদা, পাথর ও পানির তোড়ে প্রায় ৪০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে আটকা পড়েছেন অনেক পর্যটক।

নেপালের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, কয়েকটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে তাদের বাড়িসহ মাটিচাপা পড়েছে এবং দুই তরুণী ভেসে গেছে। পূর্বাভাসে আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জানানো

রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। বন উজাড়, ক্ষয়ক্ষতি ও অত্যধিক

উন্নয়নের কারণে জলবায়ু পরিস্থিতির বিপর্যয় আরও বেড়ে গিয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা দ্বিজেন ভট্টরাই বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যদেরকে মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার নেপালে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে নতুন করে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তা দিল কুমার তামাং বলেন, ভারতের সীমান্তসংলগ্ন নেপালের

পূর্বাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চথারে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম নেপালের ইলমে ১৩ জন ও দোতিতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বন্যাজনিত পরিস্থিতিতে আরও ২২ জন আহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২৬ জন।

বুধবার ভারতের উত্তরাখন্ডের রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকালে নৈনিতালে ভারী বর্ষণের পর বেশ কয়েকটি ভূমিধস হয়েছে। এদিন সাতটি আলাদা ঘটনায় অঞ্চলটিতে কমপক্ষে

৩০ জন নিহত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তা প্রদীপ জৈন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিধসের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় আলমোরা জেলায় অপর একটি ভূমিধসের ঘটনায় একটি বাড়ির পাঁচ বাসিন্দা প্রাণ হারায়।

ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত সোমবার উত্তরাখন্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরে সেসব এলাকায় বন্যা ও ভূমিধস হয়।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি এলাকা প্লাবিত হবার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।