ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ  কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন  বাড়ানোর তাগিদ  প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব  আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত হুমায়ুন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ রামপালের এক ইউনিট বন্ধ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ শেরপুরে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধের চালান জব্দ ‘আমেরিকানরা যোদ্ধা হলে ইরানের বীর বাহিনীর মুখোমুখি হোক’: পেজেশকিয়ান আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

হত্যার পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীরা রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে বিরিয়ানিও খায়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ৩১২ বার পড়া হয়েছে

হত্যার পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীরা রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে বিরিয়ানিও খায়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিশোধের জেরে হাসান তারেক নামে এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়। খুনের পর হত্যাকারীরা রেস্টুরেন্টে বসে বিরিয়ানি খেয়ে টাকা ভাগাভাগি করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তাদের শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ মূল আসামি আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।

চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যা

খুনের পর রেস্তোরাঁয় বসে বিরিয়ানি খেলেন হত্যাকারীরা, এরপর হাতে হাতে ভাগ করে নিলেন টাকা। এমন ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে চট্টগ্রামে।

গত বছরের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরে ঘটে এই হত্যা। নিহত ব্যক্তির নাম হাসান তারেক। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলেন, এই অভিযোগেই তাঁকে খুন করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্য অনুযায়ী, হাসান তারেক নিজেও একাধিক মাদক মামলার আসামি ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনসহ কয়েকজনের। গত বছর আলাউদ্দিন ও আরও দুই ব্যবসায়ী ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হন। তাঁরা ধারণা করেন, হাসানই তাঁদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন।

জামিনে মুক্তি পেয়ে তাঁরা প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০ হাজার টাকায় একজন খুনি ভাড়া করা হয়। পরিকল্পনামতো ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর হাসান তারেককে ডেকে এনে খুন করা হয়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা চট্টগ্রামের ওয়াসা এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে বসে একসঙ্গে বিরিয়ানি খান এবং সেখানে খুনে অংশ নেওয়া দুজনকে টাকা ভাগ করে দেন।

পরে রেস্টুরেন্টের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে।

গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার দামপাড়া এলাকা থেকে আলাউদ্দিনকে ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হাসান তারেক হত্যার পুরো ঘটনাটি স্বীকার করেন।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান জানান, শুরুতে লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে নিহতের বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকেই হত্যার সূত্র মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, খুনের পর রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খাওয়ার ফুটেজই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তদন্ত শুরু করেছে। আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হত্যার পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীরা রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে বিরিয়ানিও খায়

আপডেট সময় : ০৭:২০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিশোধের জেরে হাসান তারেক নামে এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়। খুনের পর হত্যাকারীরা রেস্টুরেন্টে বসে বিরিয়ানি খেয়ে টাকা ভাগাভাগি করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তাদের শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ মূল আসামি আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।

চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যা

খুনের পর রেস্তোরাঁয় বসে বিরিয়ানি খেলেন হত্যাকারীরা, এরপর হাতে হাতে ভাগ করে নিলেন টাকা। এমন ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে চট্টগ্রামে।

গত বছরের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরে ঘটে এই হত্যা। নিহত ব্যক্তির নাম হাসান তারেক। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলেন, এই অভিযোগেই তাঁকে খুন করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্য অনুযায়ী, হাসান তারেক নিজেও একাধিক মাদক মামলার আসামি ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনসহ কয়েকজনের। গত বছর আলাউদ্দিন ও আরও দুই ব্যবসায়ী ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হন। তাঁরা ধারণা করেন, হাসানই তাঁদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন।

জামিনে মুক্তি পেয়ে তাঁরা প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০ হাজার টাকায় একজন খুনি ভাড়া করা হয়। পরিকল্পনামতো ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর হাসান তারেককে ডেকে এনে খুন করা হয়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা চট্টগ্রামের ওয়াসা এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে বসে একসঙ্গে বিরিয়ানি খান এবং সেখানে খুনে অংশ নেওয়া দুজনকে টাকা ভাগ করে দেন।

পরে রেস্টুরেন্টের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে।

গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার দামপাড়া এলাকা থেকে আলাউদ্দিনকে ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হাসান তারেক হত্যার পুরো ঘটনাটি স্বীকার করেন।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান জানান, শুরুতে লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে নিহতের বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকেই হত্যার সূত্র মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, খুনের পর রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খাওয়ার ফুটেজই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তদন্ত শুরু করেছে। আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।