ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হক স্মরণে আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ ৩৮৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

তাঁর সৃষ্টির পথে পথে, অন্তরের অনুরণনে-কথাহীন, শরীরহীন অনন্ত হয়ে। দিন চলে যায়, চলে যাবে। তবে তাঁর ছোঁয়াটুকু, কর্মটুকু থাকবে, থাকতেই হয়, যেমনটি করে সক্রেটিস, লালন বেঁচে আছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

স্মৃতিচারণ, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রগবেষক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হকের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিক উদ্যাপন করেছে তাঁর হাতে গড়া সংগঠন কণ্ঠশীলন।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কণ্ঠশীলনের কার্যালয়, ৭৩/১ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকত এবং কণ্ঠশীলন সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সহ-সভাপতি রইস উল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সদস্য বিলকিস আহমদ। আবৃত্তি করেন অনন্যা গোস্বামী, আফরিন খান ও মিনহাজুল বশির শোভন।

এছাড়াও তাঁকে নিবেদন করে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের সংগীত প্রশিক্ষক শিল্পী এটিএম জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেএম মারুফ সিদ্দিকী। কণ্ঠশীলনের এক সংবাদ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

 

ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতিময় কিছু ঘটনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ওয়াহিদুল হক ছোট বড় সকলের সাথে মিশতেন এবং সকলকে সম্মান করতেন। তার ভক্ত ছিল না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। তার সমস্ত কর্মজীবনে বাঙালি সংস্কৃতির আলো ফুটেছিলো। সকল সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মানুষের ভেতরে সঙ্গীতের অনুরনন তুলেছিলেন।

 

ওয়াহিদুল হকের আদর্শে পথ চললে জীবনের পথগুলো অনেক বেশি সুন্দর হবে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, দেশের সবধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ওয়াহিদুল হক ছিলেন এক নিরন্তর যোদ্ধা। ওয়াহিদুল হককে অনুসরণ করলে আমরা অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক হতে পারবো এবং মানুষের জন্য কাজ করতে পারবো। তিনি দেশের নামকরা পত্রিকায় কাজ করেছেন।

ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন কণ্ঠশীলনের সভাপতি গোলাম সারোয়ার

শেষ জীবনে তিনি কলাম লিখতেন। এমন কোন বিষয় ছিল না যে বিষয়ের উপর তিনি লিখতে পারতেন না। শব্দের উৎপত্তি ও ব্যবহার তিনি অভিধান না দেখেই বলে দিতে পারতেন। অসাধারণ সুন্দর মানসিকতার মানুষ হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন।

ওয়াহিদুল হক আজ বহুদূরে, জগতের যত হাসি-কান্না, হিসাব-নিকাশের বাইরে। আবার বহুকাছেও আছেন তিনি, তাঁর কর্মে, তাঁর সৃষ্টির পথে পথে, অন্তরের অনুরণনে-কথাহীন, শরীরহীন অনন্ত হয়ে। দিন চলে যায়, চলে যাবে। তবে তাঁর ছোঁয়াটুকু, কর্মটুকু থাকবে, থাকতেই হয়, যেমনটি করে সক্রেটিস, লালন বেঁচে আছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। প্রয়াত নাজিম মাহমুদ ওয়াহিদ ভাইকে বলতেন ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’। ঠিক তাই।

বাঁশির সুর ছড়িয়েছিলেন তিনি পথে পথে, পদে-পদে জাতিসত্তার ‘চির উন্নত শিরে’ অবগাহনে। সেই সুর তাঁকে চিনিয়ে দিবে কালে কালে। অবিশ্বাস্য তাঁর পথচলাসীমানা, অবিশ্বাস্য তাঁর পরিচিতজন-স্বজন পরিধি বয়সের গণনাকে তু”ছ করে। ওয়াহিদ ভাই-এর সঙ্গে সম্পর্কিত সকলের একটা বদ্ধমূল ধারণা কিংবা সকলে বিশ্বাস করে ওয়াহিদ ভাই-সঙ্গে তারই কেবল আলাদা এবং অথচ গভীর একটি আত্মিক সম্পর্ক আছে এমনটা আর কারও সঙ্গে নেই। আমরা বিশ্বাস করি, এই আত্মীয়তা নিয়ে ওয়াহিদ ভাই বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হক স্মরণে আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীত

আপডেট সময় : ০৭:২৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

 

তাঁর সৃষ্টির পথে পথে, অন্তরের অনুরণনে-কথাহীন, শরীরহীন অনন্ত হয়ে। দিন চলে যায়, চলে যাবে। তবে তাঁর ছোঁয়াটুকু, কর্মটুকু থাকবে, থাকতেই হয়, যেমনটি করে সক্রেটিস, লালন বেঁচে আছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

স্মৃতিচারণ, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রগবেষক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হকের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিক উদ্যাপন করেছে তাঁর হাতে গড়া সংগঠন কণ্ঠশীলন।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কণ্ঠশীলনের কার্যালয়, ৭৩/১ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকত এবং কণ্ঠশীলন সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সহ-সভাপতি রইস উল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সদস্য বিলকিস আহমদ। আবৃত্তি করেন অনন্যা গোস্বামী, আফরিন খান ও মিনহাজুল বশির শোভন।

এছাড়াও তাঁকে নিবেদন করে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের সংগীত প্রশিক্ষক শিল্পী এটিএম জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেএম মারুফ সিদ্দিকী। কণ্ঠশীলনের এক সংবাদ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

 

ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতিময় কিছু ঘটনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ওয়াহিদুল হক ছোট বড় সকলের সাথে মিশতেন এবং সকলকে সম্মান করতেন। তার ভক্ত ছিল না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। তার সমস্ত কর্মজীবনে বাঙালি সংস্কৃতির আলো ফুটেছিলো। সকল সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মানুষের ভেতরে সঙ্গীতের অনুরনন তুলেছিলেন।

 

ওয়াহিদুল হকের আদর্শে পথ চললে জীবনের পথগুলো অনেক বেশি সুন্দর হবে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, দেশের সবধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ওয়াহিদুল হক ছিলেন এক নিরন্তর যোদ্ধা। ওয়াহিদুল হককে অনুসরণ করলে আমরা অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক হতে পারবো এবং মানুষের জন্য কাজ করতে পারবো। তিনি দেশের নামকরা পত্রিকায় কাজ করেছেন।

ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন কণ্ঠশীলনের সভাপতি গোলাম সারোয়ার

শেষ জীবনে তিনি কলাম লিখতেন। এমন কোন বিষয় ছিল না যে বিষয়ের উপর তিনি লিখতে পারতেন না। শব্দের উৎপত্তি ও ব্যবহার তিনি অভিধান না দেখেই বলে দিতে পারতেন। অসাধারণ সুন্দর মানসিকতার মানুষ হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন।

ওয়াহিদুল হক আজ বহুদূরে, জগতের যত হাসি-কান্না, হিসাব-নিকাশের বাইরে। আবার বহুকাছেও আছেন তিনি, তাঁর কর্মে, তাঁর সৃষ্টির পথে পথে, অন্তরের অনুরণনে-কথাহীন, শরীরহীন অনন্ত হয়ে। দিন চলে যায়, চলে যাবে। তবে তাঁর ছোঁয়াটুকু, কর্মটুকু থাকবে, থাকতেই হয়, যেমনটি করে সক্রেটিস, লালন বেঁচে আছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। প্রয়াত নাজিম মাহমুদ ওয়াহিদ ভাইকে বলতেন ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’। ঠিক তাই।

বাঁশির সুর ছড়িয়েছিলেন তিনি পথে পথে, পদে-পদে জাতিসত্তার ‘চির উন্নত শিরে’ অবগাহনে। সেই সুর তাঁকে চিনিয়ে দিবে কালে কালে। অবিশ্বাস্য তাঁর পথচলাসীমানা, অবিশ্বাস্য তাঁর পরিচিতজন-স্বজন পরিধি বয়সের গণনাকে তু”ছ করে। ওয়াহিদ ভাই-এর সঙ্গে সম্পর্কিত সকলের একটা বদ্ধমূল ধারণা কিংবা সকলে বিশ্বাস করে ওয়াহিদ ভাই-সঙ্গে তারই কেবল আলাদা এবং অথচ গভীর একটি আত্মিক সম্পর্ক আছে এমনটা আর কারও সঙ্গে নেই। আমরা বিশ্বাস করি, এই আত্মীয়তা নিয়ে ওয়াহিদ ভাই বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।