ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা ২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দু’দিনের মাথায় ফের ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটছে লক্ষাধিক প্রবাসীর

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫ ২৮৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউজার্সি, মিশিগান, ইলিনয়, আলাবামা, পেনসিলভেনিয়া, টেক্সাস, ম্যাসাচুসেট্স, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও ওয়াশিংটন মেট্র এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে লক্ষাধিক প্রবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস অতিরিক্ত বরাদ্দের বিল অনুমোদনের পর অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া জোরদারের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে বহুবছর আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করা হয়। তারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আইনি লড়াই চালিয়েও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাননি।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে সক্ষম হননি।

তাদের ভিসাও আপনা-আপনি বাতিলের পর অনেকে চেষ্টা করেছেন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা অথবা ইউএস সিটিজেনকে বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের স্ট্যাটাস ধরে রাখতে। তবে খুব কমসংখ্যকই এক্ষেত্রে সফল হয়েছেন বলে ইমিগ্রেশন এটর্নীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছরেরও অধিক সময় আগে থেকে যারা অবৈধ অভিবাসীর তালিকাভুক্ত হয়েছেন তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ এক ঝুঁকিতে দিনাতিপাত করছেন। অনেকে রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকান, নিউজ স্ট্যান্ড কিংবা নির্মাণ শ্রমিক অথবা ডেলিভারিম্যানের কাজ করে দিনাতিপাত করতেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ গ্রহণের পরদিন থেকেই তাদের অনেকে বাসা পাল্টিয়েছেন, কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন আইসের গ্রেফতার-অভিযান এড়াতে। নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, বস্টনের মত স্যাঙ্কচুয়্যারি সিটিতেও আইসের অভিযান শুরুর পর এসব মানুষের শেষ ঠাঁইটিও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।

এর আগে, স্যাঙ্কচুয়্যারি সিটির স্কুল-কলেজ-মসজিদ-মন্দির-চার্চ-হাসপাতালে আইসের অভিযানের এখতিয়ার ছিল না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অঘোষিত এক নীতি অবলম্বন করেছেন এসব সিটির বিরুদ্ধে। তারা যদি অবৈধ গ্রেফতার অভিযানে আইসকে সহায়তা না দেয় তাহলে ফেডারেলের সকল মঞ্জুরি বাতিল করা হবে। এমন হুমকিতে কোন সিটিই ঝুঁকি নিতে চায়নি।

প্রকৃত অর্থে কতজন বাংলাদেশি অবৈধভাবে রয়েছেন তার সংখ্যা কখনোই জানা সম্ভব হয় না। কারণ, তাদের অনেকেই মেক্সিকো কিংবা কানাডা হয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে ইমিগ্রেশনে আবেদন করেছিলেন। এজন্য সংখ্যাগত সমস্যা রয়েই গেছে। এ ব্যাপারটি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নয়, সমগ্র জনগোষ্ঠির জন্যেই।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে বহিষ্কারের আদেশ জারি হওয়া অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি। সেটিকে ধরে নিয়েই চালানো হচ্ছে গ্রেফতার অভিযান। যদিও নির্বাচনী অঙ্গিকারের সময় ট্রাম্প বলেছেন যে, কেবলমাত্র তাদেরকেই গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হবে যারা গুরুতর অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত হয়েছে, অথবা ফেরার জীবন-যাপন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটছে লক্ষাধিক প্রবাসীর

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউজার্সি, মিশিগান, ইলিনয়, আলাবামা, পেনসিলভেনিয়া, টেক্সাস, ম্যাসাচুসেট্স, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও ওয়াশিংটন মেট্র এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে লক্ষাধিক প্রবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস অতিরিক্ত বরাদ্দের বিল অনুমোদনের পর অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া জোরদারের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে বহুবছর আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করা হয়। তারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আইনি লড়াই চালিয়েও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাননি।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে সক্ষম হননি।

তাদের ভিসাও আপনা-আপনি বাতিলের পর অনেকে চেষ্টা করেছেন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা অথবা ইউএস সিটিজেনকে বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের স্ট্যাটাস ধরে রাখতে। তবে খুব কমসংখ্যকই এক্ষেত্রে সফল হয়েছেন বলে ইমিগ্রেশন এটর্নীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছরেরও অধিক সময় আগে থেকে যারা অবৈধ অভিবাসীর তালিকাভুক্ত হয়েছেন তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ এক ঝুঁকিতে দিনাতিপাত করছেন। অনেকে রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকান, নিউজ স্ট্যান্ড কিংবা নির্মাণ শ্রমিক অথবা ডেলিভারিম্যানের কাজ করে দিনাতিপাত করতেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ গ্রহণের পরদিন থেকেই তাদের অনেকে বাসা পাল্টিয়েছেন, কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন আইসের গ্রেফতার-অভিযান এড়াতে। নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, বস্টনের মত স্যাঙ্কচুয়্যারি সিটিতেও আইসের অভিযান শুরুর পর এসব মানুষের শেষ ঠাঁইটিও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।

এর আগে, স্যাঙ্কচুয়্যারি সিটির স্কুল-কলেজ-মসজিদ-মন্দির-চার্চ-হাসপাতালে আইসের অভিযানের এখতিয়ার ছিল না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অঘোষিত এক নীতি অবলম্বন করেছেন এসব সিটির বিরুদ্ধে। তারা যদি অবৈধ গ্রেফতার অভিযানে আইসকে সহায়তা না দেয় তাহলে ফেডারেলের সকল মঞ্জুরি বাতিল করা হবে। এমন হুমকিতে কোন সিটিই ঝুঁকি নিতে চায়নি।

প্রকৃত অর্থে কতজন বাংলাদেশি অবৈধভাবে রয়েছেন তার সংখ্যা কখনোই জানা সম্ভব হয় না। কারণ, তাদের অনেকেই মেক্সিকো কিংবা কানাডা হয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে ইমিগ্রেশনে আবেদন করেছিলেন। এজন্য সংখ্যাগত সমস্যা রয়েই গেছে। এ ব্যাপারটি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নয়, সমগ্র জনগোষ্ঠির জন্যেই।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে বহিষ্কারের আদেশ জারি হওয়া অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি। সেটিকে ধরে নিয়েই চালানো হচ্ছে গ্রেফতার অভিযান। যদিও নির্বাচনী অঙ্গিকারের সময় ট্রাম্প বলেছেন যে, কেবলমাত্র তাদেরকেই গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হবে যারা গুরুতর অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত হয়েছে, অথবা ফেরার জীবন-যাপন করছে।