ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

বুকে-পিঠে গণতন্ত্রের বার্তা লেখা সেই শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:০০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

বুকে-পিঠে গণতন্ত্রের বার্তা লেখা সেই শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১০ নভেম্বর, শহীদ নূর হোসেন দিবস

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে ১০ নভেম্বর এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনেই ১৯৮৭ সালে বুকে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’, আর পিঠে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। সেই বার্তা বুকে ধারণ করে রাজপথে নেমেছিলেন এক তরুণ নূর হোসেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিতে তিনি গিয়েছিলেন গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে। সেখানে পুলিশ ও তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে প্রাণ দেন তিনি।

তার সঙ্গে আরও দু’জন বিক্ষোভকারী সেদিন গুলিতে নিহত হন, তবে গণতন্ত্রের বার্তা বুকে-পিঠে ধারণ করা এই তরুণের আত্মত্যাগেই আন্দোলন পায় নতুন গতি। নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত জিরো পয়েন্টই পরবর্তীতে ‘শহীদ নূর হোসেন চত্বর’ নামে পরিচিতি পায়।

নূর হোসেনের আত্মাহুতি ছিল এক স্ফুলিঙ্গ, যা স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পথকে দ্রুততর করে। তার রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেয় নবতর গণআন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পদত্যাগে পরিণতি পায়।

ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের পরিবারে জন্ম নেওয়া নূর হোসেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু জীবনের পরিণতি হয় দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক স্থায়ী প্রতীকে। ১৯৮৭ সালের সেই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের মিছিল জিরো পয়েন্টে পৌঁছালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে। তখন যুবলীগ নেতা বাবুলের সঙ্গে নূর হোসেনও গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

নূর হোসেনের মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে গভীর নাড়া দেয়। তার আত্মত্যাগের মাস না পেরোতেই এরশাদ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জন করেন বড় দলগুলো। অবশেষে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন, আর দেশে ফিরে আসে গণতন্ত্র।

নূর হোসেনের রক্তে লেখা সেই বার্তা আজও স্বাধীন বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হয়। প্রতি বছর ১০ নভেম্বর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করে এই মহান শহীদকে, যিনি নিজের শরীরকে বানিয়েছিলেন জীবন্ত পোস্টার, আর হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রের চিরন্তন প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বুকে-পিঠে গণতন্ত্রের বার্তা লেখা সেই শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

আপডেট সময় : ০২:০০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
১০ নভেম্বর, শহীদ নূর হোসেন দিবস

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে ১০ নভেম্বর এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনেই ১৯৮৭ সালে বুকে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’, আর পিঠে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। সেই বার্তা বুকে ধারণ করে রাজপথে নেমেছিলেন এক তরুণ নূর হোসেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিতে তিনি গিয়েছিলেন গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে। সেখানে পুলিশ ও তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে প্রাণ দেন তিনি।

তার সঙ্গে আরও দু’জন বিক্ষোভকারী সেদিন গুলিতে নিহত হন, তবে গণতন্ত্রের বার্তা বুকে-পিঠে ধারণ করা এই তরুণের আত্মত্যাগেই আন্দোলন পায় নতুন গতি। নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত জিরো পয়েন্টই পরবর্তীতে ‘শহীদ নূর হোসেন চত্বর’ নামে পরিচিতি পায়।

নূর হোসেনের আত্মাহুতি ছিল এক স্ফুলিঙ্গ, যা স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পথকে দ্রুততর করে। তার রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেয় নবতর গণআন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পদত্যাগে পরিণতি পায়।

ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের পরিবারে জন্ম নেওয়া নূর হোসেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু জীবনের পরিণতি হয় দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক স্থায়ী প্রতীকে। ১৯৮৭ সালের সেই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের মিছিল জিরো পয়েন্টে পৌঁছালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে। তখন যুবলীগ নেতা বাবুলের সঙ্গে নূর হোসেনও গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

নূর হোসেনের মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে গভীর নাড়া দেয়। তার আত্মত্যাগের মাস না পেরোতেই এরশাদ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জন করেন বড় দলগুলো। অবশেষে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন, আর দেশে ফিরে আসে গণতন্ত্র।

নূর হোসেনের রক্তে লেখা সেই বার্তা আজও স্বাধীন বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হয়। প্রতি বছর ১০ নভেম্বর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করে এই মহান শহীদকে, যিনি নিজের শরীরকে বানিয়েছিলেন জীবন্ত পোস্টার, আর হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রের চিরন্তন প্রতীক।