ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

বাংলাদেশের সৈকতে ইউরোপের বিষাক্ত-বিপজ্জনক জাহাজ : এইচআরডব্লিউ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৭০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকতে ভাঙা হচ্ছে একটি জাহাজ ছবি: সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বিপজ্জনক ও বাতিল জাহাজগুলো ভাঙার জন্য বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ইউরোপ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম তাদের প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই জাহাজভাঙা শিল্প খুবই বিপজ্জনক, পরিবেশ দূষণকারী এবং এখানে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটি ‘ট্রেডিং লাইভস ফর প্রফিট বা মুনাফার জন্য জীবন কেনাবেচা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে, অনেক ইউরোপীয় শিপিং কোম্পানি জেনেশুনে তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ জাহাজগুলো বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য পাঠাচ্ছে।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প সমুদ্রসৈকতে বিষাক্ত জাহাজ ভাঙা রোধে প্রণীত আইন লঙ্ঘন করে, প্রায়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন করে এবং বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রসৈকতে ও আশপাশেফেলছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, বিশ্রাম বা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। সংগঠন দুটো তাদের ৯০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক গবেষক জুলিয়া ব্লেকনার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে জাহাজভাঙা কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের জীবন ও পরিবেশের বিনিময়ে মুনাফা অর্জন করছে।’ এ সময় তিনি পরামর্শ দেন এসব ক্ষয়ক্ষতি বন্ধ করতে শিপিং কোম্পানিগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের ফাঁকফোকরগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা এবং নিরাপদে ও দায়িত্বশীলভাবে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ ভাঙা বা স্ক্যাপিংয়ের জন্য বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫২০টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে, যেখানে কাজ করেছেন আনুমানিক ২০ হাজার শ্রমিক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জাহাজ ভাঙাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের ওপর ২০১৯ সালে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, এই খাতে আনুমানিক ১৩ শতাংশ শ্রমিক শিশু। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, অবৈধভাবে রাতে কাজ করানো হয় অনেক শিশুকেই, ফলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে।

বাংলাদেশের শিপ ব্রেক ইয়ার্ডগুলোতে ‘বিচিং বা সৈকতায়ন’ নামক একটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, যেখানে কোনো ডক বা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার না করে জাহাজগুলোকে জোয়ারের সময় সাগরতীরে আনা হয় এবং সেখানেই ভাঙার পুরো কাজ করা হয়। এ সময় কাজের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি বালু ও সমুদ্রে মিশে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক পুরোনো জিনিসপত্র স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়, যা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

নিয়ম অনুসারে, যেসব জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা ব্যবহার করে থাকে, সেগুলো মালিকপক্ষ বাতিল করতে চাইলে কেবল ইইউ অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানেই ভাঙা যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের সৈকতে ইউরোপের বিষাক্ত-বিপজ্জনক জাহাজ : এইচআরডব্লিউ

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বিপজ্জনক ও বাতিল জাহাজগুলো ভাঙার জন্য বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ইউরোপ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম তাদের প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই জাহাজভাঙা শিল্প খুবই বিপজ্জনক, পরিবেশ দূষণকারী এবং এখানে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটি ‘ট্রেডিং লাইভস ফর প্রফিট বা মুনাফার জন্য জীবন কেনাবেচা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে, অনেক ইউরোপীয় শিপিং কোম্পানি জেনেশুনে তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ জাহাজগুলো বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য পাঠাচ্ছে।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প সমুদ্রসৈকতে বিষাক্ত জাহাজ ভাঙা রোধে প্রণীত আইন লঙ্ঘন করে, প্রায়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন করে এবং বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রসৈকতে ও আশপাশেফেলছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, বিশ্রাম বা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। সংগঠন দুটো তাদের ৯০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক গবেষক জুলিয়া ব্লেকনার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপজ্জনক ও দূষণকারী ইয়ার্ডে জাহাজভাঙা কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের জীবন ও পরিবেশের বিনিময়ে মুনাফা অর্জন করছে।’ এ সময় তিনি পরামর্শ দেন এসব ক্ষয়ক্ষতি বন্ধ করতে শিপিং কোম্পানিগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের ফাঁকফোকরগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা এবং নিরাপদে ও দায়িত্বশীলভাবে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ ভাঙা বা স্ক্যাপিংয়ের জন্য বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫২০টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে, যেখানে কাজ করেছেন আনুমানিক ২০ হাজার শ্রমিক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জাহাজ ভাঙাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের ওপর ২০১৯ সালে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, এই খাতে আনুমানিক ১৩ শতাংশ শ্রমিক শিশু। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, অবৈধভাবে রাতে কাজ করানো হয় অনেক শিশুকেই, ফলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে।

বাংলাদেশের শিপ ব্রেক ইয়ার্ডগুলোতে ‘বিচিং বা সৈকতায়ন’ নামক একটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, যেখানে কোনো ডক বা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার না করে জাহাজগুলোকে জোয়ারের সময় সাগরতীরে আনা হয় এবং সেখানেই ভাঙার পুরো কাজ করা হয়। এ সময় কাজের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি বালু ও সমুদ্রে মিশে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক পুরোনো জিনিসপত্র স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়, যা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

নিয়ম অনুসারে, যেসব জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা ব্যবহার করে থাকে, সেগুলো মালিকপক্ষ বাতিল করতে চাইলে কেবল ইইউ অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানেই ভাঙা যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয় না।