ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

ফ্রি ভিসা প্রতারণায় ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা, অভিবাসন খাতে অনৈতিক নিয়োগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

ফ্রি ভিসা প্রতারণায় ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা, অভিবাসন খাতে অনৈতিক নিয়োগ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) গবেষণা

তথাকথিত ফ্রি ভিসা এখন আর মুক্তির নয়, বরং অভিবাসীদের জন্য এক ভয়াবহ আর্থিক ফাঁদে পরিণত হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা ২০২২ সালে তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ পদ্ধতির নামে অনৈতিক ও প্রতারণামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন। অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন কর্মসূচি (ওকাপ) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এটি ছিল ওই বছরের বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশের সমান।

গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, অভিবাসীরা প্রবাসে যাওয়ার পর অতিরিক্ত নিয়োগ ফি, লুকানো খরচ, এবং চাঁদাবাজির কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় মূলত গন্তব্য দেশগুলোতেই স্থানান্তরিত হয়েছে, যা স্বাভাবিক অভিবাসন খরচের তিন থেকে ছয় গুণ বেশি।

ওকাপের বিশ্লেষণ অনুসারে, ফ্রি ভিসাধারী শ্রমিকদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ পরবর্তীতে বিনা খরচে আনুষ্ঠানিক কাজের অনুমতিপত্র পান। তবে ২১ শতাংশ শ্রমিককে গড়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়েছে অনুমতির জন্য। আরও ৪ শতাংশ শ্রমিক চাকরি পেতে গড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং প্রায় সমপরিমাণ শ্রমিক চাকরি হারানোর পর দেশে ফেরার বিমানভাড়া হিসেবে ৪৮ হাজার ৮৮৯ টাকা ব্যয় করেছেন।

প্রবাসে প্রথম বেতনের আগে সব শ্রমিককেই খাদ্য, বাসাভাড়া ও জীবিকার জন্য গড়ে ৩০ হাজার টাকা নিজেদের পকেট থেকে খরচ করতে হয়েছে।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বহন করা অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন টাকা। দেশের মোট জিডিপি ৫৫ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন টাকার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এই ক্ষতি জাতীয় অর্থনীতির প্রায় অর্ধ শতাংশের সমান।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজারই যান জিসিসি দেশগুলোতে। ওকাপ চেয়ারম্যান জানান, প্রায় ৫৪ শতাংশ নিয়োগ অবৈধ সাব-এজেন্টদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটি অভিবাসন খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।

ওকাপের গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ‘স্ট্রেনদেনড অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস প্রকল্পের আওতায়। এতে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস অর্থায়ন করেছে এবং সহযোগিতা দিয়েছে হেলভেটাস সুইস ইন্টারকো-অপারেশন বাংলাদেশ।

তথাকথিত ফ্রি ভিসা এখন আর মুক্তির নয়, বরং অভিবাসীদের জন্য এক ভয়াবহ আর্থিক ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফ্রি ভিসা প্রতারণায় ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা, অভিবাসন খাতে অনৈতিক নিয়োগ

আপডেট সময় : ০৫:১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) গবেষণা

তথাকথিত ফ্রি ভিসা এখন আর মুক্তির নয়, বরং অভিবাসীদের জন্য এক ভয়াবহ আর্থিক ফাঁদে পরিণত হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা ২০২২ সালে তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ পদ্ধতির নামে অনৈতিক ও প্রতারণামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন। অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন কর্মসূচি (ওকাপ) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এটি ছিল ওই বছরের বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশের সমান।

গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, অভিবাসীরা প্রবাসে যাওয়ার পর অতিরিক্ত নিয়োগ ফি, লুকানো খরচ, এবং চাঁদাবাজির কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় মূলত গন্তব্য দেশগুলোতেই স্থানান্তরিত হয়েছে, যা স্বাভাবিক অভিবাসন খরচের তিন থেকে ছয় গুণ বেশি।

ওকাপের বিশ্লেষণ অনুসারে, ফ্রি ভিসাধারী শ্রমিকদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ পরবর্তীতে বিনা খরচে আনুষ্ঠানিক কাজের অনুমতিপত্র পান। তবে ২১ শতাংশ শ্রমিককে গড়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়েছে অনুমতির জন্য। আরও ৪ শতাংশ শ্রমিক চাকরি পেতে গড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং প্রায় সমপরিমাণ শ্রমিক চাকরি হারানোর পর দেশে ফেরার বিমানভাড়া হিসেবে ৪৮ হাজার ৮৮৯ টাকা ব্যয় করেছেন।

প্রবাসে প্রথম বেতনের আগে সব শ্রমিককেই খাদ্য, বাসাভাড়া ও জীবিকার জন্য গড়ে ৩০ হাজার টাকা নিজেদের পকেট থেকে খরচ করতে হয়েছে।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বহন করা অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন টাকা। দেশের মোট জিডিপি ৫৫ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন টাকার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এই ক্ষতি জাতীয় অর্থনীতির প্রায় অর্ধ শতাংশের সমান।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজারই যান জিসিসি দেশগুলোতে। ওকাপ চেয়ারম্যান জানান, প্রায় ৫৪ শতাংশ নিয়োগ অবৈধ সাব-এজেন্টদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটি অভিবাসন খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।

ওকাপের গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ‘স্ট্রেনদেনড অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস প্রকল্পের আওতায়। এতে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস অর্থায়ন করেছে এবং সহযোগিতা দিয়েছে হেলভেটাস সুইস ইন্টারকো-অপারেশন বাংলাদেশ।

তথাকথিত ফ্রি ভিসা এখন আর মুক্তির নয়, বরং অভিবাসীদের জন্য এক ভয়াবহ আর্থিক ফাঁদে পরিণত হয়েছে।