ফারাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ রিজভীর
- আপডেট সময় : ০৮:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ হ্রাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে ‘জাতীয় পানিসম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ব্যারাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
রিজভী বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীতে প্রবাহিত অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা গেলে দেশের নদ-নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে কৃষি উৎপাদন সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে দেশের নদ-নদীগুলোতে পানির প্রবাহ ক্রমেই কমে আসছে। উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারসহ নানা কারণে বাংলাদেশ তার ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।
পদ্মা নদীর শাখা-উপশাখাগুলোর পানিপ্রবাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুম পর্যন্ত ধরে রাখা গেলে এসব নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতেও সহায়তা মিলবে।
তিনি আরও বলেন, পদ্মার শাখা-উপশাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঠেলে দূরে রাখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
১৯৭৭ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রশ্ন তোলেন, পরবর্তী সময়ে ওই বিধান কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আরও জোরালো ও কার্যকর অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ভারতের অভ্যন্তরে কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধের উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, পানির ন্যায্য বণ্টনের প্রশ্নে কোনো পক্ষই সহজে ছাড় দিতে চায় না। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা এবং ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে দেশকেও সোচ্চার থাকতে হবে।
পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শাখা-উপশাখা নদীগুলোর পানিপ্রবাহ সচল রাখা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও নৌযান চলাচলের সম্ভাবনাও বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনজীবনে নদ-নদীগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পেতে পারে।



















