আড়াই লাখের বেশি যুব নারী-পুরুষের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
দেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ লাখ ৪৫ হাজার যুব নারী ও পুরুষের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো। ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
বুধবার রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) আয়োজিত ‘ইয়ুথ অ্যান্ড এমপ্লয়ার্স মিট’ অনুষ্ঠানে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (নিট) যুবদের কারিগরি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামাজিক-আবেগিক দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আর্ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুবদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
আর্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কাজী মোকলেছুর রহমান বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হতে হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয়মুখী উদ্যোগ গড়ে তোলা। যুবদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মজগতে প্রবেশের পথ সহজ করতেও প্রকল্পটি কাজ করছে।
কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার। তিনি বলেন, আর্ন শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, বরং যুবদের সম্ভাবনাকে টেকসই জীবিকার সুযোগে রূপান্তরের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে যুবদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলায় তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার পথ তৈরি হবে।
বিশ্বব্যাংকের ইমপ্লিমেন্টেশন স্পেশালিস্ট রওনক জাহান যুব নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে যুব প্রতিনিধি ও নিয়োগদাতারা দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে আলোচনা করেন। নিয়োগদাতারা চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে, যুব অংশগ্রহণকারীরা চাকরি খোঁজা, কর্মজীবনে প্রবেশ এবং ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা জানান।
‘ইয়ুথ টেক দ্য মাইক’, ‘এমপ্লয়ার্স কনভারসেশন’ ও ‘ইয়ুথ ক্যাফে’সহ বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক পর্ব এবং প্যানেল আলোচনায় প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সহায়তা ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে যুবদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
আর্ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কেয়ার বাংলাদেশ। এতে যৌথ অংশীদার হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি), দ্য আর্থ সোসাইটি, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), জাগো ফাউন্ডেশন, মিরপুর অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুল (এমএডব্লিউটিএস), তাহজিংডং, আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেপ) বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন।
প্রকল্পটি রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর-প্রোগ্রামস এমেবেট মেন্না, কেয়ার ইউএসএর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার (ইয়ুথ স্কিলিং) সারা জনসন, কেয়ার বাংলাদেশের ডিরেক্টর-কোঅর্ডিনেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ আমানুর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী।
ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মুর্তজা আলী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কাওসার উদ্দিন চৌধুরী।



















