ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা ২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দু’দিনের মাথায় ফের ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২৫ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের একটি দিন, কিন্তু অসংখ্য পরিবারের কাছে এটি এক অমোচনীয় ক্ষতচিহ্ন। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার পিলখানায় যে রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তার রেশ আজও শুকায়নি।

সকালের নরম রোদে বনানী সামরিক কবরস্থানের নীরবতা ভেঙে আসে চাপা কান্নার শব্দে। সাদা-কালো ছবির ফ্রেমে বন্দী হাসিমুখগুলো যেন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, আমাদের অপরাধ কী ছিল? ফুলের তোড়া হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধা মা ছবির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলেন,  বাবা, তুই তো বলেছিলি বিকেলে ফিরবি… সেই বিকেল আর ফেরেনি।

সেদিন নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করা মানুষগুলো মুহূর্তেই পরিণত হন ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়ে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প
পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প

আজও অনেক সন্তানের মনে বাবার স্মৃতি কেবল একটি সামরিক পোশাক আর একটি ভাঁজ করা পতাকা। অনেক স্ত্রী অপেক্ষা করেন এমন এক মানুষের জন্য, যিনি আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়বেন না।

সকাল সাড়ে ১০টায় স্বজনেরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া-মোনাজাতে ভেঙে পড়েন। কেউ কবরের মাটি ছুঁয়ে কাঁদছেন, কেউ নীরবে চোখ মুছছেন। তাঁদের কান্না শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার আর্তনাদও।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে ধাপে ধাপে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প
পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প: ছবি সংগ্রহ

কিন্তু শহীদ পরিবারগুলোর কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই ২৫ ফেব্রুয়ারিতেই। তাঁদের চোখে আজও একই প্রশ্ন এই রক্তের দায় কার? বিচার কবে পূর্ণতা পাবে?

১৭ বছর পরও পিলখানা কেবল একটি ঘটনা নয়,  এটি বাংলাদেশের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা এক শোকগাথা। যতদিন না ন্যায়বিচারের সব দরজা সম্পূর্ণ খুলছে, ততদিন এই দিনটি ফিরে আসবে অশ্রু আর অসমাপ্ত আর্তনাদ হয়ে।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প

আপডেট সময় : ০৩:০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২৫ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের একটি দিন, কিন্তু অসংখ্য পরিবারের কাছে এটি এক অমোচনীয় ক্ষতচিহ্ন। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার পিলখানায় যে রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তার রেশ আজও শুকায়নি।

সকালের নরম রোদে বনানী সামরিক কবরস্থানের নীরবতা ভেঙে আসে চাপা কান্নার শব্দে। সাদা-কালো ছবির ফ্রেমে বন্দী হাসিমুখগুলো যেন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, আমাদের অপরাধ কী ছিল? ফুলের তোড়া হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধা মা ছবির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলেন,  বাবা, তুই তো বলেছিলি বিকেলে ফিরবি… সেই বিকেল আর ফেরেনি।

সেদিন নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করা মানুষগুলো মুহূর্তেই পরিণত হন ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়ে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প
পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প

আজও অনেক সন্তানের মনে বাবার স্মৃতি কেবল একটি সামরিক পোশাক আর একটি ভাঁজ করা পতাকা। অনেক স্ত্রী অপেক্ষা করেন এমন এক মানুষের জন্য, যিনি আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়বেন না।

সকাল সাড়ে ১০টায় স্বজনেরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া-মোনাজাতে ভেঙে পড়েন। কেউ কবরের মাটি ছুঁয়ে কাঁদছেন, কেউ নীরবে চোখ মুছছেন। তাঁদের কান্না শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার আর্তনাদও।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে ধাপে ধাপে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প
পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প: ছবি সংগ্রহ

কিন্তু শহীদ পরিবারগুলোর কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই ২৫ ফেব্রুয়ারিতেই। তাঁদের চোখে আজও একই প্রশ্ন এই রক্তের দায় কার? বিচার কবে পূর্ণতা পাবে?

১৭ বছর পরও পিলখানা কেবল একটি ঘটনা নয়,  এটি বাংলাদেশের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা এক শোকগাথা। যতদিন না ন্যায়বিচারের সব দরজা সম্পূর্ণ খুলছে, ততদিন এই দিনটি ফিরে আসবে অশ্রু আর অসমাপ্ত আর্তনাদ হয়ে।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।