ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বহীনতায় ফাঁস ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫০ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বহীনতায় ফাঁস ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চালু করা অনলাইন আবেদনের গুরুতর ত্রুটিতে অন্তত ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে প্রকাশ্যে ছিল সাংবাদিকদের ছবি, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল নম্বরসহ গণমাধ্যমসংক্রান্ত নানা নথি।

 

নির্বাচনে সাংবাদিকদের কার্ড গাড়ির স্টিকার দেওয়ার জন্য ইসি প্রথমবারের মতো অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করে। pr.ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া আবেদনে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি অফিস আইডি কার্ড, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত তালিকাসহ নানা সংবেদনশীল তথ্য যুক্ত ছিল। পরে সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে ইসি ম্যানুয়ালি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ততক্ষণে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক অনলাইনে আবেদন করে ফেলেন। শনিবার বিকেল চারটার পর হঠাৎ করে ইসির ওয়েবসাইটে এসব তথ্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ওয়েবসাইটের ইউআরএলেইউজার’-এর জায়গায়অ্যাডমিনলিখে সার্চ করলেই সব আবেদন তথ্য দেখা যাচ্ছিল।

 

এমনকি হোমপেজেই আবেদনকারীদের নাম, এনআইডি নম্বর পূর্ণ আবেদন দেখার অপশন চলে আসে। সন্ধ্যার দিকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে গেলেও ততক্ষণে তথ্য কপি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতার নজির হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, কোনো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে ডেটা প্রোটেকশন অ্যাকসেস কন্ট্রোল ছাড়া এমন সিস্টেম চালু করে, তা বোধগম্য নয়।

 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের হাতে গেছে কি না। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সন্ধ্যার আগে অবগত ছিলেন না। কীভাবে তথ্য ফাঁস হয়েছে তা না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলেও জানান তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মাইনুল হোসেন বলেন, ডিজিটাল সিস্টেম আস্থা বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন গাফিলতি জনগণের আস্থা নষ্ট করবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বহীনতায় ফাঁস ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চালু করা অনলাইন আবেদনের গুরুতর ত্রুটিতে অন্তত ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে প্রকাশ্যে ছিল সাংবাদিকদের ছবি, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল নম্বরসহ গণমাধ্যমসংক্রান্ত নানা নথি।

 

নির্বাচনে সাংবাদিকদের কার্ড গাড়ির স্টিকার দেওয়ার জন্য ইসি প্রথমবারের মতো অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করে। pr.ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া আবেদনে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি অফিস আইডি কার্ড, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত তালিকাসহ নানা সংবেদনশীল তথ্য যুক্ত ছিল। পরে সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে ইসি ম্যানুয়ালি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ততক্ষণে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক অনলাইনে আবেদন করে ফেলেন। শনিবার বিকেল চারটার পর হঠাৎ করে ইসির ওয়েবসাইটে এসব তথ্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ওয়েবসাইটের ইউআরএলেইউজার’-এর জায়গায়অ্যাডমিনলিখে সার্চ করলেই সব আবেদন তথ্য দেখা যাচ্ছিল।

 

এমনকি হোমপেজেই আবেদনকারীদের নাম, এনআইডি নম্বর পূর্ণ আবেদন দেখার অপশন চলে আসে। সন্ধ্যার দিকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে গেলেও ততক্ষণে তথ্য কপি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতার নজির হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, কোনো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে ডেটা প্রোটেকশন অ্যাকসেস কন্ট্রোল ছাড়া এমন সিস্টেম চালু করে, তা বোধগম্য নয়।

 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের হাতে গেছে কি না। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সন্ধ্যার আগে অবগত ছিলেন না। কীভাবে তথ্য ফাঁস হয়েছে তা না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলেও জানান তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মাইনুল হোসেন বলেন, ডিজিটাল সিস্টেম আস্থা বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন গাফিলতি জনগণের আস্থা নষ্ট করবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।