দ্য ইকোনমিস্টের তালিকায় বর্ষসেরা মুকুট বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০০ বার পড়া হয়েছে
দ্য ইকোনমিস্টের তালিকায় বর্ষসেরা মুকুট বাংলাদেশের। চলতি বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান স্বৈরশাসক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও নতুন দিকে দেশের যাত্রা শুরু করার বিষয়টিই বাংলাদেশকে তালিকার শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও বর্ষসেরা দেশ নির্বাচন করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। তারাই ২০২৪ সালের বর্ষসেরা দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করেছে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা।
বর্ষসেরা দেশের তালিকাসংবলিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেরা ধনী, সবচেয়ে সুখী বা নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ স্থানের অধিকারী, এমন সব বিবেচনায় নয়, বরং গত ১২ মাসে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে, সেই বিচারে সেরা দেশ নির্বাচন করা হয়েছে।
সেরা দেশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দ্য ইকোনমিস্টের সংবাদদাতাদের মধ্যে জোরাল বিতর্ক হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। পরে বর্ষসেরা দেশ নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। রানারআপ সিরিয়া। এ বছর চূড়ান্ত তালিকায় ছিল পাঁচটি দেশ। বাংলাদেশ ও সিরিয়া ছাড়াও পোল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনা।
বাংলাদেশ সম্পর্কে দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, আমাদের বিজয়ী বাংলাদেশ, তারাও এক স্বৈরশাসককে উৎখাত করেছে। গত আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে রাজপথের আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তিনি সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশটিকে ১৫ বছর ধরে শাসন করেন। দেশের স্বাধীনতার একজন নায়কের কন্যা হাসিনা। একসময় দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
কিন্তু পরে দমনপীড়ন শুরু করেন, নির্বাচনে জালিয়াতি করেন, বিরোধীদের কারাগারে ভরেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তার আমলে বিরাট অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রতি বছরের ডিসেম্বরে দ্য ইকোনমিস্ট কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার হিসেবে একটি দেশের নাম ঘোষণা করে। সেক্ষেত্রে দেশটিকে ওই বছর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ছাপ রাখতে হয়।
সেই ফল অনুযায়ী ২০২৪ সালের বর্ষসেরা দেশ বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত তালিকায় আরও ছিল সিরিয়া, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পোল্যান্ড। এসব দেশকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠল বাংলাদেশ।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে দ্য ইকোনমিস্টের সংবাদদাতাদের মধ্যে গভীর আলোচনার পর। এতে বাংলাদেশ বিজয়ী হিসেবে উঠে আসে এবং সিরিয়া রানার-আপ হিসেবে মনোনীত হয়।
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বর্ষসেরা দেশ হিসেবে নির্বাচিত করার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান।
শেখ হাসিনা তার শাসনামলে নির্বাচনে কারচুপির আশ্রয় নেন। তিনি বিরোধীদের কারাগারে পাঠানো এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তার শাসনামলে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় প্রায়ই প্রতিশোধমূলক সহিংসতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তন আশাব্যঞ্জক। শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের পর, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছে, যা ছাত্র, সেনাবাহিনী, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের সমর্থন পেয়েছে। এই সরকার শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে।



















