এক বছরে ধর্ষণ মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশ
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে যখন আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার প্রতিপাদ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, তখনই দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ এবং ধর্ষণের মামলা ২৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ঢাকার চারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতকক্ষের ভেতরে জায়গা না পেয়ে বারান্দায় বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করছেন ভুক্তভোগী নারী ও তাদের স্বজনেরা। মামলার ডাক পড়লেই উৎকণ্ঠা নিয়ে বিচারকের সামনে দাঁড়াচ্ছেন তারা। অনেক মামলায় নির্যাতনের বর্ণনা শুনে পরিবেশ হয়ে উঠে ভারী ও বেদনাময়।
দেশের বিভিন্ন স্থানেও সম্প্রতি একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। পাবনায় দাদিকে হত্যা করে কিশোরী নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা, নরসিংদীতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক মেয়ের হত্যাকাণ্ড, সীতাকুণ্ডে সাত বছরের শিশুর ওপর যৌন সহিংসতার পর হত্যা, কক্সবাজারের উখিয়ায় গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো ঘটনা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব ঘটনার কোনোটি মামলা হয়েছে, আবার কোনোটি হয়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ২১ হাজার ৯৩৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৭ হাজার ৬৮টি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৫ হাজার ১৭১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ১ হাজার ৮৯৭ জন শিশু। ২০২৪ সালে নারী নির্যাতনের মামলা ছিল ১৭ হাজার ৫৭১টি, যার মধ্যে ধর্ষণের মামলা ছিল ৫ হাজার ৫৬৬টি।
উচ্চ আদালতের তথ্য বলছে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে ৩০ হাজার ৩৬৫টি মামলা। ঢাকার ৯টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ১১ হাজার ৫৬৭টি।
নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা শুধু সরকারের একার কাজ নয়, এ ক্ষেত্রে সমাজের সব স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বাড়ানো এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন মনে করেন, শুধু বিচারপ্রক্রিয়া নয়, তদন্তপ্রক্রিয়াও কার্যকরভাবে তদারকি করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা, সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের আইনি, আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত সহায়তা বাড়াতে হবে। তার মতে, নারী নির্যাতনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
















