ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের সঙ্গে গভীরতর শিল্প অংশীদারত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় লক্ষ্যবস্তু শিশুরা: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিনিয়োগ, কৌশলগত অংশীদারত্ব ও রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা পলাশীর ইতিহাস বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস দুর্যোগকবলিত উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত

১৬ দিনে ৯৫ থেকে ২১০ টাকা: এবার আদার বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের আদার বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে  আদার দাম।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এপ্রিলের শেষদিকে যে চায়না আদা প্রতি কেজি ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেটিই এখন ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, ভারতীয় কেরালা আদা স্থলবন্দর দিয়ে আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে আমদানিনির্ভর চায়না আদার ওপর চাপ বেড়েছে। কোরবানির সময় মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা এমনিতেই বেড়ে যায়।

এই বাড়তি চাহিদার সুযোগে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আবু তৈয়্যব জানান, গত সোমবারও চায়না আদা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই দাম বেড়ে ১৮০ থেকে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, দাম যেভাবে বাড়ছে, সামনে আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেকেই পুঁজিহীন হয়ে পড়ায় নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেননি।

১৬ দিনের ৯৫ টাকা থেকে ২১০: এবার আদার বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা
ফাইল ছবি

ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বর্তমানে চায়না আদার আমদানি খরচ কেজিপ্রতি প্রায় ১১০ টাকা।

কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এর চেয়েও কম দামে আদা বিক্রি করতে হয়েছে। আদা পচনশীল হওয়ায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করাও সম্ভব নয়।

তবে বাজার বিশ্লেষক ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের মতে, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি বাজারে সিন্ডিকেট কারসাজিও সক্রিয় রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন আমদানিকারক বন্দরে থাকা আদার কনটেইনার নিয়মিত খালাস না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। এতে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম দ্রুত বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি একাধিক জাহাজে শত শত টন আদা এসেছে। বিভিন্ন জাহাজে কয়েক ডজন কনটেইনার আদা পৌঁছালেও তার বড় অংশ এখনো বন্দরে অবস্থান করছে।

সাধারণত প্রতি কনটেইনারে ২৭ টনের বেশি আদা থাকে। এত বড় পরিমাণ পণ্য বন্দরে থাকার পরও বাজারে সংকটের অজুহাত নিয়ে দাম বাড়ানোয় প্রশ্ন উঠেছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনের নেতারা বলছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবেই ব্যবসায়ীদের একটি চক্র অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের দাবি, দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি পরিস্থিতি বিবেচনায় আদার দাম এত দ্রুত দ্বিগুণ হওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই।

প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং বন্দরে থাকা পণ্য দ্রুত বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ না নিলে কোরবানির আগে ভোক্তাদের আরও বেশি দামে আদা কিনতে হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৬ দিনে ৯৫ থেকে ২১০ টাকা: এবার আদার বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের আদার বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে  আদার দাম।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এপ্রিলের শেষদিকে যে চায়না আদা প্রতি কেজি ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেটিই এখন ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, ভারতীয় কেরালা আদা স্থলবন্দর দিয়ে আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে আমদানিনির্ভর চায়না আদার ওপর চাপ বেড়েছে। কোরবানির সময় মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা এমনিতেই বেড়ে যায়।

এই বাড়তি চাহিদার সুযোগে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আবু তৈয়্যব জানান, গত সোমবারও চায়না আদা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই দাম বেড়ে ১৮০ থেকে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, দাম যেভাবে বাড়ছে, সামনে আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেকেই পুঁজিহীন হয়ে পড়ায় নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেননি।

১৬ দিনের ৯৫ টাকা থেকে ২১০: এবার আদার বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা
ফাইল ছবি

ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বর্তমানে চায়না আদার আমদানি খরচ কেজিপ্রতি প্রায় ১১০ টাকা।

কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এর চেয়েও কম দামে আদা বিক্রি করতে হয়েছে। আদা পচনশীল হওয়ায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করাও সম্ভব নয়।

তবে বাজার বিশ্লেষক ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের মতে, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি বাজারে সিন্ডিকেট কারসাজিও সক্রিয় রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন আমদানিকারক বন্দরে থাকা আদার কনটেইনার নিয়মিত খালাস না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। এতে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম দ্রুত বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি একাধিক জাহাজে শত শত টন আদা এসেছে। বিভিন্ন জাহাজে কয়েক ডজন কনটেইনার আদা পৌঁছালেও তার বড় অংশ এখনো বন্দরে অবস্থান করছে।

সাধারণত প্রতি কনটেইনারে ২৭ টনের বেশি আদা থাকে। এত বড় পরিমাণ পণ্য বন্দরে থাকার পরও বাজারে সংকটের অজুহাত নিয়ে দাম বাড়ানোয় প্রশ্ন উঠেছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনের নেতারা বলছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবেই ব্যবসায়ীদের একটি চক্র অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের দাবি, দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি পরিস্থিতি বিবেচনায় আদার দাম এত দ্রুত দ্বিগুণ হওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই।

প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং বন্দরে থাকা পণ্য দ্রুত বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ না নিলে কোরবানির আগে ভোক্তাদের আরও বেশি দামে আদা কিনতে হতে পারে।