স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেডে প্রথমবার যুক্ত হলো বিজিবির যান্ত্রিক বহর
- আপডেট সময় : ০১:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে।
এবারের উদযাপনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দীর্ঘ ১৮ বছর পর আয়োজিত জাতীয় প্যারেডে প্রথমবারের মতো বিজিবির আধুনিক যান্ত্রিক বহরের অংশগ্রহণ, যা বাহিনীর সক্ষমতার এক অনন্য প্রদর্শনী হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ প্যারেডে বিজিবির একটি সুসজ্জিত কনটিনজেন্ট সম্মিলিত কুচকাওয়াজে অংশ নেয়।
এ প্যারেডেই প্রথমবারের মতো বিজিবির যান্ত্রিক বহর প্রদর্শিত হয়, যেখানে দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনীতে বিজিবির অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর মধ্যে ছিল বিজিবি এয়ার উইংয়ের তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টার ফ্লাইপাস্ট, এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপনস (এটিজিডাব্লিউ) আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), রায়োট কন্ট্রোল ভেহিকেল (আরসিভি), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ), র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি), অল টেরেইন ভেহিকল (এটিভি) এবং কে-৯ ইউনিটের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াডের দক্ষতা প্রদর্শন।

এই অংশগ্রহণ বিজিবির আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দিবসের শুরুতে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারাদেশের সব ইউনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী অংশ নেন।
পরে তিনি পিলখানায় ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিজিবির একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এছাড়া দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিজিবি জাদুঘর ও বিজিবি চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত রাখা হয়।
দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে এশার নামাজের পর পিলখানাস্থ সদর দপ্তরসহ সারাদেশের সকল রিজিয়ন, সেক্টর ও ইউনিটের মসজিদে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
একইসঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও বিজিবির উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করা হয়।
এর আগে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতায় নিহত শহীদদের স্মরণে যোহরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



















