স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার: রেলমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) তিনি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) পরিদর্শন শেষে জানান, রেলওয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তঃনগর সার্ভিসে ১২৪টি মিটারগেজ এবং ১৪টি ব্রডগেজ কোচ অতিরিক্ত সংযোজন করেছে।
এছাড়াও, ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত সার্ভিসের অতিরিক্ত পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। সড়ক ও নৌপথে সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি ৩ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। টিকিট বিক্রির সময় প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিটের জন্য চেষ্টা করলেও রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শেষ পর্যন্ত যাত্রী যারা টিকিট কিনতে চেয়েছেন, তারা সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন।
ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ২১টি ট্রেন নির্ধারিত গন্তব্যে ছেড়েছে, অধিকাংশই সময়মতো চলেছে। তবে দুটি ট্রেন প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে, যা পূর্বে দুর্ঘটনার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা দেরি করত। মন্ত্রী আশা করেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে এই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাবে।

মন্ত্রী স্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। যাত্রীদের মধ্যে কিছু উদ্বেগ থাকলেও তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সেবার মান ধরে রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন রেল যোগাযোগকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব করতে, যাতে মানুষ স্বল্প সময়ে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত করতে পারে।
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মন্ত্রী জানান, এই প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যদিও শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে কেউ ছাদে উঠতে না পারে।
মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যে ১.২৫-১.৫ কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন। এত স্বল্প সময়ে এই পরিমাণ মানুষের যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের লক্ষ্য, সুষ্ঠুভাবে সর্বোচ্চ সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই চাপ মোকাবিলা করা।
নতুন কোচ, বাস ও নৌযান যুক্ত করা।
বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা।
জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভাড়া বৃদ্ধি না করা।
বড় কোনো ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে ৮৫-৮৭টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ প্রয়োজন। বর্তমানে ৭৮টি যুক্ত করা হয়েছে, আরও কয়েকটি যুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
রেলওয়ে পুলিশ, নিয়মিত পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌপুলিশ ও জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে।

আনসার সদস্যদের দায়িত্ব।
বিশেষ জ্যাকেট পরিহিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, প্রতি ৫০০ মিটার অন্তর।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছয় লেনের কাজ চলমান থাকলেও অন্তত দুই লেন চালু রাখা হয়েছে।
যান চলাচল ধীরগতি হলেও কোথাও থেমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হবে না।
প্রশাসন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা সাময়িক বিঘ্ন দ্রুত সামাল দিতে প্রস্তুত।
মন্ত্রী মতিঝিল বিআরটিসি বাস ডিপো পরিদর্শন করেন। ডিপো এলাকার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির এবং আসন্ন ঈদে বাসসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনে মন্ত্রী সঙ্গে ছিলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিববৃন্দ এবং
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন।



















