সেঞ্চুরীর পথে পেঁয়াজের দাম, আগামী তিনমাস সংকট আরও বাড়বে
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫ ২৭১ বার পড়া হয়েছে
পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, ফসল তোলার সময় এবং প্রক্রিয়াকরণে আধুনিক পদ্ধতির অভাব, সঠিকভাবে পেঁয়াজ শুকানোর অভাব, এই সমস্যা সমাধানে, আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং ফসল তোলার আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।
আমিনুল হক, ঢাকা
চাহিদার বিপরীতে যোগান কম থাকার অজুহাতে এরই মধ্যে বাজাওে ৯০ টাকা কেজি ধওে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ৪৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ একলাফে ৬০ টাকা। এর পরই পেঁয়াজের ঝাঁজ আরও বেড়ে যায়। রাতারাতি ৬০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় পৌছে।
স্থানীয় মজুদ কমে আসায় হঠাৎ উর্ধমুখী পেঁয়াজের দাম। মজুদ সংকট দেখিয়ে এরই মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। দেশে প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা ১৮০০ মেট্রিক টন। সে অনুযায়ী পেঁয়াজের মজুদ নেই। জানুয়ারী থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্থানীয় পেঁয়াজই বাজারে সরবরাহ হয়ে থাকে। এবারের পেঁয়াজের মৌসুম শুরু থেকেই দাম কম ছিলো।
জানুয়ারী থেকে গত কিছুদিন আগ পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় দিন দশেক আগে থেকে হঠাৎ পেঁযাজের দাম বাড়তে থাকে। বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এমন অবস্থায় সেঞ্চুরীর পথে হাঁটছে পেঁয়াজের বাজার।

বিগত বছরগুলোতে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা হচ্ছে, ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। তবে কোন কোন সূত্র বলছে, বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৮ থেকে ৩০ লাখ টন। যা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব।
কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে স্থানীয়ভাবে প্রতি বছর উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রায় ১০ থেকে ১১ লাখ টনের সমান নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে চাহিদার বিপরীতে স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ উৎপাদন সত্ত্বেও আমদানি করতে হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

কৃষক ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ কো-চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন ফরাজীর মতে, পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, ফসল তোলার সময় এবং প্রক্রিয়াকরণে আধুনিক পদ্ধতির অভাব, সঠিকভাবে পেঁয়াজ শুকানোর অভাব, এই সমস্যা সমাধানে, আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং ফসল তোলার আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেশে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সুজানগর উপজেলায়। এছাড়াও, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে সারা বছর পেঁয়াজ উৎপাদনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ফলন বেশি এবং খরচও কম। বাংলাদেশে প্রতিদিনের চাহিদা হচ্ছে ১৮০০ মেটিন পেঁয়াজ।
সে হিসাবে তিনমাসে ১ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিন পেঁয়াজ প্রয়োজন। যার মাত্র ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৬ হাজার ২০০ মেট্রিক টন স্থানীয়ভাবে যোগান দিয়ে থাকে। বাকী আমদানি করে চাহিদা মোকাবিলা করতে হয়। শঙ্কর বাবু আরও বলেন, জানুয়ারীর শুরুতে নতুন পেঁয়াজ ওঠতে শুরু করে। চলতি বছর ৮ মাস পেয়াজ আমদানি বন্ধ থাকে।




















