শিশু বান্ধব উপজেলার রূপরেখা প্রণয়ণে সংলাপ
- আপডেট সময় : ০৮:১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩ ২৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশকে শিশুশ্রম মুক্ত প্রত্যয় নিয়ে নিরন্তন কাজ করে চলেছে হাসিনা সরকার
শিশুদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও পুষ্টি, আশ্রয় ও সুরক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয় সম্পর্কিত নানাবিধ কর্মসূচিসহ শিশুশ্রম বন্ধের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় টেকসই উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমারা বিশ্বাস করি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমৃদ্ধ আগামী
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
বাংলাদেশকে শিশুশ্রম মুক্ত প্রত্যয় নিয়ে নিরন্তন কাজ করে চলেছে, হাসিনা সরকার। শিশু শ্রম মুক্ত করার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রত্যয় ব্যক্ত করে আইন প্রণেতা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান গবেষকরা। শিশু শ্রমিকের মধ্যে ৭০ শতাংই গ্রামীণ পর্যায়ে বসবাস করে থাকে। সেখানে যারা শিশু শ্রমিক, তাদের বিশাল একটা অংশ স্কুল থেকে ছিটকে পড়া। তারা নিজেদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশ নেয়। বিশেষ করে ইটভাটায় সকাল-সন্ধ্যা কাজ করে যে মজুরী পায়, তা দিয়ে সংসারের দুমুটো অন্ন যোগার করে থাকে।
শিশু শ্রম নিরসনে উপজেলা পর্যায় থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন একটি রূপরেখার। এটি করতে হলে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে সামনে রেখেই ইনসিডিন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের যৌথ আয়োজন ‘শিশু বান্ধব উপজেলার রূপরেখা প্রণয়ন বিষয়ক সংলাপ’। এতে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন ইনসিডিনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম খান।

অ্যারো দত্ত এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শিশুবান্ধব সরকার। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এ সকল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, এবং সিভিল সোসাইটিসহ সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।
সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, সরকার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ১৪ বছরের নিচের আর কোনো শিশু যাতে নতুন করে শিশুশ্রমে নিযুক্ত না হয় সেজন্য পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে ঝকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুকে সরিয়ে আনা হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও পুষ্টি, আশ্রয় ও সুরক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয় সম্পর্কিত নানাবিধ কর্মসূচিসহ শিশুশ্রম বন্ধ করার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় টেকসই উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমারা বিশ্বাস করি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমৃদ্ধ আগামী।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে আয়োজিত সংলাপে শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি মো. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে বক্তৃতা অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান, শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সহসভাপতি আরমা দত্ত, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের জুলিয়া জেসমিন, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাফাতুর রহমান, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের আশরাফ উদ্দিন, এএসডি’র গুল-ই জান্নাত, নারী মৈত্রীর মোমিনুল হক, ইনসিডিনের মুবাশ্বিরা জামান সিন্থিয়া প্রমুখ।
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, এসডিজির অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন এবং উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সব খাত থেকে শিশুশ্রম নিরসন অপরিহার্য। তাই নিম্ন দরিদ্র মানুষদের সচেতন করতে হবে। কারণ এসব পরিবারে সন্তানদের সংখ্যা না কমালে কখনো শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না। তাই দুইটি সন্তানের বেশি নয়- নিম্ন দরিদ্রদের মধ্যে এই ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, শিশু অধিদপ্তরসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মাহবুবুল হক বলেন, আগামী দিনে শিশুশ্রম বন্ধের কার্যক্রম সারাদেশে বিস্তৃত করতে হবে। শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখা ও তা বাস্তবায়নে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।’ সরকারের উন্নয়ন অংশীদার ও সহযোগী হিসেবে এনজিওদের পাশে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকার প্রণীত শিশুশ্রম নিরসন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে আইনপ্রণেতা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, শিশুশ্রম নিরসনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজির অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে শিশুশ্রম নিরসন জরুরি। তাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।

সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে হলে জেলা-উপজেলা জন্য পৃথক বরাদ্দ ও রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। শিশুশ্রম মুক্ত যেসব জেলা-উপজেলা হবে সেইসব জেলার জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এতে করে অন্যান্যরা জেলার ডিসিরা উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসবেন। মাধ্যমিক স্কুলে ড্রেস ও ভর্তি ফ্রি কারণে বেশিরভাগ শিশু ড্রাপআউট হয়ে যায়। বিভাগ-জেলা-উপজেলার শিশুদের ডাটাবেইজ তৈরি, মনিটরিং ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে সার্ভে মাধ্যমে প্রকৃত শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে বাজেটে শিশুদের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখতে হবে।
শিশুদের পরিবার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সকল বিষয়ে সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরো উদ্যোগী হতে হবে।




















