যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান, ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতিতে ভাঙন
- আপডেট সময় : ১১:৫২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছিল স্পষ্টতই শীতল ও সীমিত আস্থাহীনতায় আচ্ছন্ন। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ইসলামাবাদ তখন তালেবান-সম্পর্কিত জটিলতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে একটি প্রশ্নবিদ্ধ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরও পাকিস্তানের অর্থনীতি বহিরাগত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং দেশটির নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখা হতো দ্বিমুখী আচরণে অভ্যস্ত কাঠামো হিসেবে।
কিন্তু বছরের শেষ দিকে এসে দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে এক ধরনের পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়, যার কেন্দ্রে ধীরে ধীরে স্থান করে নেয় পাকিস্তান। শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ইসলামাবাদকে নিয়ে সংশয় থাকলেও নীরব সন্ত্রাসবিরোধী যোগাযোগ ও বাস্তব সহযোগিতার ইঙ্গিত সম্পর্কের বরফ গলাতে সহায়ক হয়।
মার্চ মাসে এক জাতীয় ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের ভূমিকার প্রকাশ্য প্রশংসা করলে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে তা বিস্ময়ের জন্ম দেয়। দীর্ঘদিন ধরে যে পাকিস্তানকে সীমিত কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন মনে করা হচ্ছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি কার্যকর ও সাড়া দেওয়া অংশীদার হিসেবে নতুনভাবে মূল্যায়িত হতে থাকে। এর বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ধারা, নাগরিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে অনমনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশ্ন বাড়তে থাকে।
মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সংঘর্ষ এই পরিবর্তনের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। সংঘাতে পাকিস্তানের সামরিক শৃঙ্খলা ও কৌশলগত সক্ষমতা ওয়াশিংটনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতদিন যাকে ক্ষয়িষ্ণু শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেই পাকিস্তানকে নতুন করে আঞ্চলিক ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ নামে নতুন শীর্ষ পদ সৃষ্টি এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা সংলাপকে আরও গতিশীল করে তোলে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালের প্রাক্কালে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। ইরান, গাজা পরিস্থিতি ও চীনের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় ইসলামাবাদ যে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে, তা ওয়াশিংটনের নীতিতে বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চোখে পাকিস্তান এখন কেবল একটি অংশীদার নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাবশালী এক কেন্দ্রীয় খেলোয়াড়।
সূত্র: ওয়াশিংটন টাইমস




















