ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন কমিশনের রিপোর্ট আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরান যুদ্ধে সমর্থন নেই’ মার্কিন  এনসিটিসি প্রধানের পদত্যাগ পহেলা বৈশাখে  কৃষক কার্ড বিতরণের যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মহাসড়ক উন্নয়নে দ্রুত সুখবরের আশ্বাস, গোমা সেতু উদ্বোধন শিলাবৃষ্টির আতঙ্কে ধর্মপাশা-মধ্যনগরের কৃষক, ফসল রক্ষায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে কৃষকের কল্যাণে দোয়া ও ইফতার, ভোলায় মানবিকতা ও সংহতির অনন্য আয়োজন কোদাল হাতে খাল খননে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিতে স্বনির্ভরতার ডাক ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান ভারতের ‘বৃক্ষমাতা’ তুলসী গৌড়া, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের অনন্য নজির ঈদে মহাসড়কে কড়াকড়ি, ৭ দিন বন্ধ থাকবে ট্রাক-লরি চলাচল

মার্কিন কমিশনের রিপোর্ট আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন কমিশনের রিপোর্ট আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন এর ২০২৬ সালের রিপোর্টে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা গবেষণা বিশ্লেষণ শাখা (‘’)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এসব সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং সেখানে অবস্থানকারীদের সম্পদ জব্দ করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে দেশটিকেসিপিসিবিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসাবে তালিকায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং মব সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। ধর্মান্তরকরণ বা গরু পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন গণপিটুনির ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া ভারতের বিভিন্ন আইন নীতিরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি), বিভিন্ন রাজ্যের ধর্মান্তরবিরোধী আইন এবং গোরক্ষা আইনকে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে তৈরি বলেও অভিযোগ করা হয়।

পাশাপাশি ওয়াকফ আইন, সন্ত্রাস দমন আইন ইউএপিএ এবং এনজিওগুলোর বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব আইনের কারণে সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি উপাসনালয় ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে, ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য, সামরিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করার জন্য।

তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তারা রিপোর্টটিকেএকপেশেঅযৌক্তিকবলে আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি।

সব মিলিয়ে, এই প্রতিবেদনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রভারত সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মার্কিন কমিশনের রিপোর্ট আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন এর ২০২৬ সালের রিপোর্টে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা গবেষণা বিশ্লেষণ শাখা (‘’)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এসব সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং সেখানে অবস্থানকারীদের সম্পদ জব্দ করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে দেশটিকেসিপিসিবিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসাবে তালিকায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং মব সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। ধর্মান্তরকরণ বা গরু পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন গণপিটুনির ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া ভারতের বিভিন্ন আইন নীতিরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি), বিভিন্ন রাজ্যের ধর্মান্তরবিরোধী আইন এবং গোরক্ষা আইনকে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে তৈরি বলেও অভিযোগ করা হয়।

পাশাপাশি ওয়াকফ আইন, সন্ত্রাস দমন আইন ইউএপিএ এবং এনজিওগুলোর বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব আইনের কারণে সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি উপাসনালয় ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে, ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য, সামরিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করার জন্য।

তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তারা রিপোর্টটিকেএকপেশেঅযৌক্তিকবলে আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি।

সব মিলিয়ে, এই প্রতিবেদনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রভারত সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।