ভরা মৌসুমেও ইলিশ মিলছে না ‘পদ্মা-মেঘনায়’
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৩ ২১৯ বার পড়া হয়েছে
গত মৌসুমে এককেজি ওজনের ইলিশ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা বিক্রি হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আরও কমেও পাওয়া যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে কেজি ওজনের ইলিশ ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকার নিচে মিলছে না। ইলিশের ভরমৌসুমে বাংলাদেশে এতো দামে ইলিশ তা অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতো।ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের যোগান কম হওয়ায় দাম চড়া
আমিনুল হক, ঢাকা
ইলিশের বাড়ি বাংলাদেশ। সেই বাড়িতে এখন মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ। এখানের পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ায় গেল মৌসুমেও ভরপুর ইলিশে মিলেছে। মৎস্যজীবীরা নৌকা ভর্তি ইলিশ নিয়ে চাঁদপুর ঘাটে নৌকা ভিড়িয়েছে। এবছর এখনও তেমন উৎসব উৎসব পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।
কখনও কখনও সাগরে কোন কোন মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ছে ঝাকে ঝাকে ইলিশ। কিন্তু নদ-নদীতে আগের মতো আর ইলিশের বিচরণ নেই বলে মন্তব্য মৎস্যজীবীদের। কেন এমন পরিস্থিতি।
উত্তরে বাংলাদেশের প্রধান ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশের বিচরণ ভূমিতে নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। যেমন পদ্মা-মেঘনায় ডুবো চরের পাশাপাশি নদীর তলদেশে পরিবেশ দূষণ, খদ্যের অভাবসহ ইত্যাদি কারণে ইলিশের বিচরণ কমেছে। তবে, পৃথিবীর মোট ইলিশের ৮৫ ভাগই বাংলাদেশে উপাদিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের আরও সচেতন ও যত্নবান হতে হবে।
গত মৌসুমে এককেজি ওজনের ইলিশ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা বিক্রি হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আরও কমেও পাওয়া যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে কেজি ওজনের ইলিশ ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকার নিচে মিলছে না। ইলিশের ভরমৌসুমে বাংলাদেশে এতো দামে ইলিশ তা অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতো।ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের যোগান কম হওয়ায় দাম চড়া।
দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, নোয়াখালীর হাতিয়া ও লক্ষ্মীপুরে সাগরে ধরা পড়া ইলিশ চাঁদপুরে আসছে। সেই ইলিশেই এখানের আড়ৎগুলো সচল। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ’ মণ ইলিশ আসছে এখানের আড়তে।
১ কেজি ও তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের কেজি ১৩০০-১৪০০ টাকা এবং ৩০০-৩৫০ গ্রাম সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫০-৭০০ টাকা।
চাঁদপুর সদরের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, পদ্মা-মেঘনা নদীর চাঁদপুর এলাকায় ইলিশের বিচরণ কমেছে। কারণ মৎস্য বৈজ্ঞানিরা নদীর তলদেশে চর, মাছের খাদ্যের অভাব ও দূষণের বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন। এখন নদীতে পানি বেড়েছে এবং বৃষ্টিও হচ্ছে। ফলে মৌসুমের বাকি সময় ইলিশের বিচরণ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে এই মৎস্য কর্মকর্তা।




















