বেতন বাড়ানোর ক্ষমতা নেই অন্তর্বর্তী সরকারের, সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার
- আপডেট সময় : ০৩:২৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত (যেমন বেতন কাঠামো, বড় ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প) নেওয়ার নৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ১৫ দিন বাকি। এ স্বল্প সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বর্তমান সরকার। বেতন বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এই সরকারের নেই, এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
আজ সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে পরবর্তী সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বৈঠক শেষে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। তাঁর পরিবর্তে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।
ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ ১০–১৫ বছরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, কিন্তু তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি। সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই ও আর্থিক বিশ্লেষণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সব দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
তিনি আরও জানান, বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করলে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। তবে বাস্তবে বেতন কাঠামো একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়—যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হলো ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক ভিত্তি তৈরি করা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন বড় পরিকল্পনার মতো বেতন কমিশনের বিষয়টিও সেই প্রস্তুতির অংশ মাত্র।
সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা বা আন্দোলনের সম্ভাবনা এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রশাসনিক অচলাবস্থা যেন সৃষ্টি না হয়—সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বেতন কমিশনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো প্রস্তাব তিনি দেখেননি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতেও এ ধরনের কোনো প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট বার্তা-অন্তর্বর্তী সরকারের বেতন বাড়ানোর ক্ষমতা নেই, সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।



















