ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচন কমিশনের সামনে বিজিবি মোতায়েন, ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত মাদারীপুরে বাস অটোরিকশা সংঘর্ষ প্রাণ গেল ৬জনের বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার রমজান সামনে আগেই চড়া বাজার: দামে লাগাম টানতে কড়া নজরদাবি জরুরি বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী: রাজনৈতিক বার্তা কী?

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা নিয়ে গঠিত খুলনা–১ আসনে দলটি মনোনয়ন দিয়েছে কৃষ্ণ নন্দীকে।

তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি এবং ২০০৩ সালে সদস্যফরম পূরণ করে জামায়াতে যোগ দেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী নন্দীর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা তেমন আলোচনায় আসেনি।

প্রথমে এই আসনে স্থানীয় নেতা আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও ১ ডিসেম্বর খুলনার বিভাগীয় সমাবেশে দলটির আমির শফিকুর রহমান হঠাৎ পরিবর্তন এনে কৃষ্ণ নন্দীর নাম ঘোষণা করেন।  পরে জেলা জামায়াতের সভায় বিষয়টি অনুমোদিত হয়। নন্দী জানান, আগের প্রার্থী এখন তাঁর হয়ে নির্বাচনী কাজও শুরু করেছেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, আরও কয়েকটি আসনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী বিবেচনায় রয়েছে এবং কয়েকজনের নাম আলোচনা টেবিলেও আছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের পর দলটির গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হয়, যেখানে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সদস্য হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তৃণমূলের মতামত ও জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয় বলে দাবি তাঁর।

খুলনা–১ আসনটি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় সব নির্বাচনে হিন্দু প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন এই আসনে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ব্যবহার করেছে; এখন জামায়াতও  একই ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছে। তাঁর মতে, ভোট ব্যাংক হিসেবে সংখ্যালঘুদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই।

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী: রাজনৈতিক বার্তা কী?
জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর নেতৃত্বে ডুমুরিয়ায় হিন্দু সম্মেলনের মিছিল : ছবি সংগ্রহ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জামায়াত খুলনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক সম্মেলনসহ বিভিন্ন জনসভায় কৃষ্ণ নন্দীকে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে খুলনা–৫ আসনে প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাগুলোতেও নন্দীর সক্রিয় উপস্থিতি নজর কাড়ে। এসব আয়োজনকে বিশ্লেষকরা সংখ্যালঘু ভোট আকর্ষণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।

দেশে প্রায় ১০ শতাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ভোট অনেক আসনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে, সেটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিএনপির অবস্থান কিছুটা সুবিধাজনক হলেও ঐতিহাসিক কারণে জামায়াত সংখ্যালঘুদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা সংকটে ভুগছিল। ফলে অমুসলিম সমর্থক বৃদ্ধি এখন জামায়াতের দৃশ্যমান রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, জামায়াত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে উদারনৈতিক ধারা আনার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির প্যানেলে ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রার্থী দেয়াও তার অংশ। তাঁর মতে, একজন হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া জামায়াতের রাজনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত বহন করে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, ভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-মতের মানুষকে সম্মান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দলটির নীতিগত অবস্থান। তবে এই মনোনয়নকে অনেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে দেখলেও, অনেকে আবার এটিকে নির্বাচনী কৌশল বলেই মূল্যায়ন করছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী: রাজনৈতিক বার্তা কী?

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা নিয়ে গঠিত খুলনা–১ আসনে দলটি মনোনয়ন দিয়েছে কৃষ্ণ নন্দীকে।

তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি এবং ২০০৩ সালে সদস্যফরম পূরণ করে জামায়াতে যোগ দেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী নন্দীর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা তেমন আলোচনায় আসেনি।

প্রথমে এই আসনে স্থানীয় নেতা আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও ১ ডিসেম্বর খুলনার বিভাগীয় সমাবেশে দলটির আমির শফিকুর রহমান হঠাৎ পরিবর্তন এনে কৃষ্ণ নন্দীর নাম ঘোষণা করেন।  পরে জেলা জামায়াতের সভায় বিষয়টি অনুমোদিত হয়। নন্দী জানান, আগের প্রার্থী এখন তাঁর হয়ে নির্বাচনী কাজও শুরু করেছেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, আরও কয়েকটি আসনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী বিবেচনায় রয়েছে এবং কয়েকজনের নাম আলোচনা টেবিলেও আছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের পর দলটির গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হয়, যেখানে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সদস্য হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তৃণমূলের মতামত ও জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয় বলে দাবি তাঁর।

খুলনা–১ আসনটি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় সব নির্বাচনে হিন্দু প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন এই আসনে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ব্যবহার করেছে; এখন জামায়াতও  একই ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছে। তাঁর মতে, ভোট ব্যাংক হিসেবে সংখ্যালঘুদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই।

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী: রাজনৈতিক বার্তা কী?
জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর নেতৃত্বে ডুমুরিয়ায় হিন্দু সম্মেলনের মিছিল : ছবি সংগ্রহ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জামায়াত খুলনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক সম্মেলনসহ বিভিন্ন জনসভায় কৃষ্ণ নন্দীকে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে খুলনা–৫ আসনে প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাগুলোতেও নন্দীর সক্রিয় উপস্থিতি নজর কাড়ে। এসব আয়োজনকে বিশ্লেষকরা সংখ্যালঘু ভোট আকর্ষণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।

দেশে প্রায় ১০ শতাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ভোট অনেক আসনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে, সেটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিএনপির অবস্থান কিছুটা সুবিধাজনক হলেও ঐতিহাসিক কারণে জামায়াত সংখ্যালঘুদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা সংকটে ভুগছিল। ফলে অমুসলিম সমর্থক বৃদ্ধি এখন জামায়াতের দৃশ্যমান রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, জামায়াত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে উদারনৈতিক ধারা আনার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির প্যানেলে ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রার্থী দেয়াও তার অংশ। তাঁর মতে, একজন হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া জামায়াতের রাজনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত বহন করে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, ভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-মতের মানুষকে সম্মান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দলটির নীতিগত অবস্থান। তবে এই মনোনয়নকে অনেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে দেখলেও, অনেকে আবার এটিকে নির্বাচনী কৌশল বলেই মূল্যায়ন করছেন।