ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯১ বার পড়া হয়েছে

কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা : গ্রাফিক্স ডিজাইন এআইয়ের সহায়তায়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার কাওরান বাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ( ২৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার নাগাদ কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে ঘটনা ঘটে। হামলায় কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরিস্থিতি থমথমে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কিচেন মার্কেটের সামনে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে হঠাৎ করে একদল বহিরাগত ব্যক্তি সেখানে এসে হামলা চালান। এতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে ব্যবসায়ীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা সরে যান।

ঘটনার পর কিচেন মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বেলা একটা নাগাদ সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তেজগাঁও থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আবদুর রহমানের অনুসারীরা এই হামলায় জড়িত। তাঁদের দাবি, গত বছরের আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে কাওরান বাজারের বিভিন্ন মার্কেট, কাওরান বাজার সুপারমার্কেট, কিচেন মার্কেট এবং নম্বর সুপারমার্কেট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দোকানভিত্তিক দৈনিক মাসিক হারে চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি বরফ বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা
কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

কাওরান বাজারের ইসলামিয়া শান্তি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল এবং বিষয়টি আগেই থানাপুলিশকে জানানো হয়। তা সত্ত্বেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

তিনি জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রোববার আরও তিনটি মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ দাবি করেন, ব্যবসায়ীদের কমিটি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই মানববন্ধন হয় এবং হামলাটি ভিন্ন একটি গ্রুপ চালিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির কারণে।

বিষয়ে তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বলেন, কাওরান বাজারে একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে। মানববন্ধন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা সংঘর্ষ হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি জানান, ভুক্তভোগীদের মামলা করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকার কাওরান বাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ( ২৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার নাগাদ কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে ঘটনা ঘটে। হামলায় কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরিস্থিতি থমথমে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কিচেন মার্কেটের সামনে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে হঠাৎ করে একদল বহিরাগত ব্যক্তি সেখানে এসে হামলা চালান। এতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে ব্যবসায়ীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা সরে যান।

ঘটনার পর কিচেন মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বেলা একটা নাগাদ সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তেজগাঁও থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আবদুর রহমানের অনুসারীরা এই হামলায় জড়িত। তাঁদের দাবি, গত বছরের আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে কাওরান বাজারের বিভিন্ন মার্কেট, কাওরান বাজার সুপারমার্কেট, কিচেন মার্কেট এবং নম্বর সুপারমার্কেট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দোকানভিত্তিক দৈনিক মাসিক হারে চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি বরফ বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা
কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

কাওরান বাজারের ইসলামিয়া শান্তি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল এবং বিষয়টি আগেই থানাপুলিশকে জানানো হয়। তা সত্ত্বেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

তিনি জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রোববার আরও তিনটি মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ দাবি করেন, ব্যবসায়ীদের কমিটি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই মানববন্ধন হয় এবং হামলাটি ভিন্ন একটি গ্রুপ চালিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির কারণে।

বিষয়ে তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বলেন, কাওরান বাজারে একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে। মানববন্ধন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা সংঘর্ষ হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি জানান, ভুক্তভোগীদের মামলা করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।