আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত বার্লিনের
- আপডেট সময় : ০১:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ এক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মানি। ফিলিস্তিনের গাজায় কথিত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এ চলমান মামলায় ইসরায়েল-এর পক্ষে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন।
এই মামলাটি ২০২৩ সালে দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে গাজায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানালেও, জার্মানি ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম দৃঢ় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্র।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র চলতি সপ্তাহে নিশ্চিত করেছেন যে, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিজেতে চলমান এই মামলায় জার্মানি আর ইসরায়েলের পক্ষে হস্তক্ষেপ করবে না।
এই ঘোষণা কার্যত তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে তারা ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়াবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সে সময় বার্লিন যুক্তি দিয়েছিল, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তাদের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে পড়ছে।
কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, জার্মানি এখন আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নিতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান চাপ, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন এবং গাজায় চলমান মানবিক সংকট, এসব বিষয় জার্মানির এই নীতিগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
জার্মানির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর



















