Turkey earthquake : ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে তুরস্ক ও সিরিয়ায়, সংখ্যা আরও বাড়ার ল আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০১:০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক
তুরস্কের : ছবি এপি
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৩০০-র বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে ১৪০টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের তলায় বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা। ফলে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত ৪২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
১৯৩৯ সালের পর তুরস্ক এমন ভয়াবহ ভূকম্প দেখেনি। বিপর্যয়ের মুহূর্তের বেশ কিছু ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক, টুইটারে।
প্রচণ্ড কম্পনে ঘুম ভেঙে যায় তুর্কিদের। ভূমিকম্পে অনুভূত হয় প্রতিবেশী সিরিয়া, সাইপ্রাস এবং লেবাননেও। তুরস্ক ও সিরিয়ায় প্রাণহানি বাড়ছে হুহু করে। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ৭৬ জন নিহত হয়েছে। আর সিরিয়ায় শতাধিক।
সোমবার ভোরবেলায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ তুরস্ক। কম্পনের উৎসস্থল দক্ষিণ তুরস্কে। গাজিয়ানতেপ প্রদেশের পূর্ব দিকে নুরদাগি শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ভূগর্ভের প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলের এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৮। এর কিছু ক্ষণ পর আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়েছে মধ্য তুরস্কে।

ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দ্বিতীয় কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬.৭। লেবানন, সিরিয়া এবং সাইপ্রাসের বিভিন্ন অংশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর।
মার্কিন ভূতাত্তিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। কয়েক মিনিট পর আবারও একাধিক আফটার শক। ভূমিকম্পের উৎপস্থিতস্থল ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খারমানমারাসের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে দেশটিতে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, কাহরামানমারাস, গাজিয়ানতেপ, সানলিউরফা, দিয়াবাকির, আদানা, আদিয়ামান, মালতা, হাতায় এবং কিলিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহরগুলোর চারদিকে ধ্বংসস্তূপের চিত্র। ভবন ধসে অনেকে চাপা পড়েছে। নিখোঁজ সদ্যদের হন্য হয়ে খোঁজ করতে দেখা গেছে পরিবারের সদস্যদের।

তুর্কি কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত তারা ৫ শতাধিক আহতের খবর পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে তুরস্কের কোথাও কোথাও তুষারপাত আর বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন উদ্ধারকারী বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় ইস্তাম্বুলের ফ্লাইট সাময়িক সময়ের জন্য বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা ভূমকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহজে পৌঁছাতে পারছি না।
এই পরিস্থিতিকে ট্র্যাজেডি অ্যাখ্যা দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান টুইট বার্তায় বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠবো আমরা’। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।
7.6 is the largest earthquake Turkey experienced in 1999, if 7.8 remains accurate, this will the largest quake for them since then. pic.twitter.com/PKPsHXRsMc
— Nerdy 🅰🅳🅳🅸🅲🆃 (@Nerdy_Addict) February 6, 2023
দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তুরস্কের প্রতিবেশী দেশ সিরিয়াতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভূমিকম্পে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলেপ্পো, হামা, লাতাকিয়া এবং তারতুসে নিহতে ছাড়িয়েছে শতাধিক। আহত অনেকে। হাসপাতালে লাশের মিছিল।
সিএনএন আবহাওয়াবিদ ব্র্যান্ডন মিলার বলেছেন, ভূমিকম্পের কম্পন লেবানন পর্যন্ত কয়েকশ কিলোমিটার দূরে অনুভূত হতে পারে।




















