railway carriage : পরিত্যক্ত লোহায় রেলের বগি তৈরির নজির
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে
পরিত্যক্ত লোহা দিয়ে রেলের এই বগিটি তৈরি করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) সাদেকুর রহমানের নেতৃত্বে রেলের একদল শ্রমিক-কর্মচারী : ছবি সংগ্রহ
‘প্রয়োজনীয় জনবল ও অন্যান্য সুবিধা পেলে শুধু মেরামতই নয়, এখানে নতুন বগি তৈরি করাও সম্ভব’
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
সম্ভবনার বাংলাদেশ। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ। তিনি বলতেন, বাঙালি পারবে। তারা দেশ স্বাধীন করেছে। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সোনারবাংলা গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন বাংলার অবিসংবাদীত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
স্বাধীন বাঙালি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজ নজির রেখে চলেছে। চলমান উন্নয়নের সঙ্গে নতুন নতুন সুখবর আসছে। আজ এমনই একটি সু-খবর যা স্বাধীনতার মাসে বাঙালির গর্ব।
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা সৈয়দপুর। সেখানেই রয়েছে দেশের বৃহত্তর রেলওয়ে কারখানা। কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) সাদেকুর রহমান। তার মাথায় দীর্ঘদিন ধরেই একটা বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি ভাবতেন পরিত্যক্ত লোহা-লক্কর দিয়ে রেল বগি তৈরির।
অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করে নজির গড়লেন সাদেকুর রহমান। রেলের একদল শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়ে তিনি তৈরি করে ফেলেন রেলের নান্দনিক বগি।
বৃটিশরা এই অঞ্চলের রেল গাড়ি চালানো শুরু করেন। তার জন্য রেলপথ, কারখানা থেকে শুরু করে যা প্রয়োজন তার সব কিছুই স্থাপন করে। ১৮৭০ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর এখানে নতুন কোচ তৈরি হতো।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের সূর্য ওঠে ১৯৯৩ সালে। তখন রেল সংকোচন নীতির আওতায় কোচ নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে কারখানাটিতে যাত্রীবাহী ক্যারেজ ও মালবাহী ওয়াগন মেরামতের কাজ করা হয়।
রেলওয়ের এই কারাখানাটিতে ১ হাজার ২০০ ধরনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) সাদেকুর রহমান যোগদানের পর দর্শনার্থীদের জন্য কারখানার সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে রেলওয়ে দিবসে প্রতীকী বগিটি স্থাপন করা হয়েছে।
বগিটি মিটারগেজ ট্রেনের, দৈর্ঘ্য ১২ ফুট, প্রস্থ ১১ ও উচ্চতা ৭ ফুট।
রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকরা বলেন, অবসর সময়ে স্বেচ্ছাশ্রমে তারা ছয় আসনের বগিটি তৈরি করেন। ব্যবহার করা হয়েছে অব্যবহৃত পুরোনো লোহার যন্ত্রাংশ।
কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও অন্যান্য সুবিধা পেলে শুধু মেরামতই নয়, এখানে নতুন বগি তৈরি করাও সম্ভব। পরবর্তীকালে এখানে ট্রেনের একটি রেপ্লিকা স্থাপনের চিন্তাও রয়েছে।
বগি দেখতে আসা সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোখছেদুল মোমিন বলেন, বগিটির মাধ্যমে এ পথে যাতায়াতকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন এই কারখানায় ট্রেনের বগি নির্মাণের কাজ হয়। সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
দেশের বৃহত্তম এই রেল কারখানায় একসময় ১০ হাজারের মতো শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৮০ জনে। কারখানায় মঞ্জুরি পদের সংখ্যা ২ হাজার ৫৫৯ জন থাকলেও তা পূরণ করা হচ্ছে না।





















