Mahalaya : আগমনী সুরে দেবীপক্ষের সূচনা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
শিশির স্নাত শারদ সকাল। মোলায়েম বাতাসে ভর করে পুব আকাশে রবির আগমন। সেই সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে মায়ের আগমনী সুরলহরীতে মন্ত্রমুগ্ধ হাজারো শ্রোতা। অগণন প্রাণের জাগরণে মায়ের আগমনী আয়োজন জানান দেয় ইতিহাস-ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মেলবন্ধনের নাম বাংলাদেশ। সকাল ছটা নাগাদ কানায় কানায় পূর্ণ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মূল মণ্ডপ। সকালকে সঙ্গী করে নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের সেকি উচ্ছ্বাস। মাথার ওপরে স্বচ্ছ নীল আকাশ। কাশবনে শুভ্র কাশফুলের দোল, গাছের ছায়ায় পড়ে থাকা শিউলি, ঘাসের ডগায় শিশির কণা বলে দিচ্ছে মা আসছেন। হাজারো ভক্তের সমাগমে চণ্ডিপাঠ আর আবাহন সঙ্গীত চলছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ মহালয়া। এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এ দিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া। পুরাণ এবং শাস্ত্র মতে দিনটিকে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনা। ভোরের আলো ফুটতেই পিতৃ-মাতৃহীন অনেকে সপরিবারে ঢাকেশ্বরীতে ছুটে আসেন। তারা পূর্বপুরুদের স্মরণ করে আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে, এই দিনে প্রয়াতদের আত্মা মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

প্রয়াতদের আত্মার এই সমাবেশকে মহালয়া বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষের শেষ দিন এটি। পুকুরঘাটে ভীড় বাড়তে থাকে। রীতি অনুযায়ী জলে দাড়িয়ে চলতে থাকে পারলৌকিক ক্রিয়াদি। মহালয়া মানেই প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। ১ অক্টোবর থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হলেও মূলত মহালয়ার দিন থেকেই পূজার্থীরা দুর্গাপূজার আগমনধ্বনি শুনতে পাবেন। দুর্গাপূজার এই সূচনার দিনটি সারা দেশে বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপিত হবে। রবিবার ভোর ৬টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি। দেশের অন্যান্য মন্দিরেও এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে পিতৃপক্ষের অবসানে, অমাবস্যার অন্ধকার পেরিয়ে আমরা আলোকোজ্জ্বল দেবীপক্ষকে আগমন করি, তাই সেই মহা লগ্ন আমাদের জীবনে ‘মহালয়া’। এক্ষেত্রে দেবী দুর্গাকেই সেই মহান আশ্রয় বলা হয়ে থাকে এবং আঁধার থেকে আলোতে উত্তরণের লগ্নটিকে বলা হয় মহালয়া। পাড়া-মহল্লার পূজা মণ্ডপে মণ্ডপে আনন্দ আমেজ। প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজে শশব্যস্ত কারিগর ও বারোয়ারী পূজা মণ্ডপ গুলো। ষষ্ঠীর সকাল থেকে শুরু করে বহু প্রতীক্ষিত অষ্টমির অঞ্জলি, মহানবমীর উচ্ছলতা আর বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বাজনার সেই স্মৃতিগুলো আজ থেকেই দোল দেবে হৃদয়ে। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের পূজা হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি হয়।























