ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদির কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, ২ বাংলাদেশিসহ নিহত  ১২ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়, সৌদি আরবকে সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কী ঘটেছে তাঁকে ঘিরে এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ বিবেচনা করছে সরকার: মাহদী আমিন অনলাইন চাকরির প্রলোভনে ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, তরুণী গ্রেপ্তার শেরপুরের ৫৫ বছরেও সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ হাতি সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নে কমবে মানুষ-হাতি সংঘাত: পরিবেশমন্ত্রী তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে প্রথমবার চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া নৌকা

শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ৪.৬ শতাংশে উন্নীত

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ৪.৬ শতাংশে উন্নীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ০৫ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বুধবার প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের সাময়িক হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে। এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসকে অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিক হিসেবে ধরা হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই গতি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির চিত্রেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

চার প্রান্তিকের সম্মিলিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। যদিও বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, পুরো অর্থবছরের গড় প্রবৃদ্ধি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রার তুলনায় কম।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার বেড়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

এর আগে গত ১০ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছিল বিবিএস। সেই হিসাবে পুরো অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল। তবে সর্বশেষ প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবের সমন্বয়ে পূর্ণ অর্থবছরের স্থির মূল্যের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। বাস্তবে অর্জিত ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ার বিষয়টি অর্থনীতিতে কিছুটা গতি ফেরার ইঙ্গিত দিলেও পুরো অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি এখনও দুর্বল অবস্থানেই রয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন, বিনিয়োগ, শিল্প, ভোগ ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে টেকসই গতি না এলে কেবল একটি প্রান্তিকের উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

তবে চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আগের দুই প্রান্তিকের তুলনায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সামনে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো, ব্যবসায়িক আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপির সর্বশেষ হিসাব বলছে, বছরের শুরুতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে মন্থরতা ছিল, শেষ প্রান্তিকে তা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা গেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে হলে এই গতি ধরে রাখার পাশাপাশি অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতগুলোতে টেকসই সম্প্রসারণ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ৪.৬ শতাংশে উন্নীত

আপডেট সময় : ১০:২৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ০৫ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বুধবার প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের সাময়িক হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে। এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসকে অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিক হিসেবে ধরা হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই গতি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির চিত্রেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

চার প্রান্তিকের সম্মিলিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। যদিও বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, পুরো অর্থবছরের গড় প্রবৃদ্ধি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রার তুলনায় কম।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার বেড়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

এর আগে গত ১০ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছিল বিবিএস। সেই হিসাবে পুরো অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল। তবে সর্বশেষ প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবের সমন্বয়ে পূর্ণ অর্থবছরের স্থির মূল্যের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। বাস্তবে অর্জিত ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ার বিষয়টি অর্থনীতিতে কিছুটা গতি ফেরার ইঙ্গিত দিলেও পুরো অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি এখনও দুর্বল অবস্থানেই রয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন, বিনিয়োগ, শিল্প, ভোগ ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে টেকসই গতি না এলে কেবল একটি প্রান্তিকের উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

তবে চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আগের দুই প্রান্তিকের তুলনায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সামনে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো, ব্যবসায়িক আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপির সর্বশেষ হিসাব বলছে, বছরের শুরুতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে মন্থরতা ছিল, শেষ প্রান্তিকে তা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা গেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে হলে এই গতি ধরে রাখার পাশাপাশি অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতগুলোতে টেকসই সম্প্রসারণ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।