বাংলাদেশে দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি ৫৫ বছরের ইতিহাসে নতুন নজির
- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের আকাশে শারদ উৎসবের আবহ। গ্রাম থেকে রাজধানী দেশজুড়ে প্রায় ২৪ হাজার মণ্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এবার সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন টানা পাঁচ দিনের ছুটি। ৫৫ বছরের ইতিহাসে দুর্গাপূজায় এমন টানা ছুটি এবারই প্রথম।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি বাড়ছে ভ্রমণ ও পারিবারিক আয়োজনের প্রস্তুতিও। শিউলির ঘ্রাণ, কাশফুলের দোলা, ভোরের আকাশে মেঘের ভেলা আর চারদিকে উৎসবের আগমনী আবহ সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন জানান দিতে শুরু করে, মা আসছেন।
শরতের শুভ্রতার সঙ্গে বাঙালির হৃদয়ে যে উৎসবের সবচেয়ে গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে, সেই শারদীয় দুর্গোৎসবের অপেক্ষার প্রহরও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসে। বাংলাদেশের আকাশে শারদীয়ার আগমনী বার্তা। ১০ অক্টোবর মহালয়া, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে শুরু দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের, অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের এবং অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর চিরন্তন বিজয়ের প্রতীক।
২০২৬ সালে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হবে শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে। আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার পালিত হবে মহালয়া। আর ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। পাঁচ দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দেবীর মর্ত্যধামের অবস্থান। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকবে।
এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি হবে। টানা পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়ার জন্য ছুটির ক্যালেন্ডারে সামঞ্জস্য আনতে ১৭ অক্টোবর শনিবারকে কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এরপরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে। দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়ার বিষয়টি এবার বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপূজার ছুটি সীমিত সময়ের মধ্যে থাকলেও এবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি সমন্বয় করে পূজার সময়টিকে টানা পাঁচ দিনের অবকাশে পরিণত করা হয়েছে।
তবে,পাঁচ দিনের ছুটি হলেও রাষ্ট্রের জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো বন্ধ থাকবে না। দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়ার বিষয়টি এবার বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপূজার ছুটি সীমিত সময়ের মধ্যে থাকলেও এবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি সমন্বয় করে পূজার সময়টিকে টানা পাঁচ দিনের অবকাশে পরিণত করা হয়েছে।
ফলে পূজার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত, পারিবারিক আয়োজন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এটি পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও পারিবারিক সময় কাটানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ তৈরি করবে।
জরুরি সেবা থাকবে চালু
তবে পাঁচ দিনের ছুটি হলেও রাষ্ট্রের জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো বন্ধ থাকবে না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সেবা, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর,
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক সেবা, হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন,
এসব সেবা ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরাও প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।



















