ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় গ্রিডে নতুন ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত গ্যাস শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি কৃষকের চাহিদাই অগ্রাধিকার ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বাবার বিষে ৩ সন্তানের মৃত্যু স্ত্রী সৌদি পারি দেবার তিনদিনের মাথায় তিনশিশুসহ বিষয় পান করেন বাবা দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও শিক্ষায় সমান সুযোগ পাচ্ছে না: ড. নাজনীন আহমেদ রাজশাহীর বাঘা সীমান্তে বিএসএফ’র হাতে আটককৃত ৫ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ২৮-এ ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি আমদানি কমাতে সৌরবিদ্যুতের বড় উত্থান ভারতে পলাতক আসামিদের নিয়ে দিল্লিকে ঢাকার কড়া বার্তা নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা

জাতীয় গ্রিডে নতুন ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত গ্যাস শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় গ্রিডে নতুন ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত গ্যাস শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে এ গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত হওয়া শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে।

২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড এবং দীর্ঘমেয়াদি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ স্মরণকালের জ্বালানি সংকটে পড়ে। শিল্পকারখানায় উৎপাদনে চরম বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি সামাল সর্বাত্ম চেষ্টা চালায় সরকার। জ্বালানি সংকট মোবিলায় তিন গুণ অতিরিক্ত ব্যয়ে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। সরকারের অব্যাহত প্রচষ্টায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপের লোকেশন-সি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জ্বালানি সচিব খাইরুজ্জামান মজুমদারসহ মন্ত্রণালয় ও বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ কিছুদিন ধরে কষ্টের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া স্বস্তির খবর। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে সরকার কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করেছে। তিনি বলেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি কূপে বর্তমানে ড্রিলিং ও উন্নয়নকাজ চলছে।

বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়। প্রায় পাঁচ মাসের প্রচেষ্টায় চলতি বছরের ২৭ মে কূপটির খননকাজ শেষ হয়। কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পর শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।  সংশ্লিষ্টরা জানান, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি উৎপাদনশীল কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন ২৮ নম্বর কূপের ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত হওয়ায় দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়ল।

এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপ থেকেও আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এসব কূপ থেকে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে।

সরকারের ১৫০ কূপের বৃহৎ কর্মসূচির লক্ষ্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো। তবে নতুন কূপগুলোর উৎপাদন শুরু হলেও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়া ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সামগ্রিক গ্যাস সংকট কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে নতুন কূপগুলো থেকে পাওয়া গ্যাসের পরিমাণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৬১ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট), যার মধ্যে ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আসছে ৯৯ এমএমসিএফডি। বাংলাদেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩,৮০০–৩,৮৬০ এমএমসিএফডির বিপরীতে ঘাটতি প্রায় ১২৫ কোটি ঘনফুট। কাঠামোগত ঘাটতি ও প্রকৃত চাহিদা মেটানো এখনো সম্ভব হয়নি।  সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও কিছু এলাকায় সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শিল্প খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চললেও অনেক জায়গায় চাপ কম রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :