ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা ২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দু’দিনের মাথায় ফের ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ভারতের কথা ও কাজের বৈপরীত্যের অভিযোগ তুলে দেশটির কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বলেছেন, লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ভারতের কথা ও কাজের বৈপরীত্যের অভিযোগ তুলে দেশটির কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বলেছেন, লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার এবং অনতিবিলম্বে এর ফলাফল পাওয়া যাবে।

চিফ হুইপের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না, বরং সম্পর্ককে সমতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে চায়। কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি বাংলাদেশের জন্য যুক্তিসঙ্গত অবস্থান। কারণ প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদার। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সংযোগ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা প্রয়োজনীয়। কিন্তু কোনো সহযোগিতা যদি একতরফা সুবিধা তৈরি করে, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে বৈষম্য, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের জনমনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কারণ। এসব বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ বক্তব্য নয়, বাস্তব আচরণেও পারস্পরিক সম্মান ও সমতার প্রতিফলন প্রত্যাশিত।

১০১টি এমওইউ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচিত আবেগ বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে প্রতিটি বিষয় যাচাই করা। প্রয়োজন হলে সংশোধন, পুনঃআলোচনা কিংবা আন্তর্জাতিক আইনসম্মতভাবে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। বিদেশি বিনিয়োগ বা ঋণ বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু তার শর্ত যেন দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে।

বাংলাদেশের বার্তাটি তাই স্পষ্ট হওয়া উচিত ভারত শত্রু নয়, কিন্তু বন্ধুত্বের নামে অসম সম্পর্কও নয়। দুই দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও ন্যায্য স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সর্বাগ্রে থাকবে বাংলাদেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা

আপডেট সময় : ০৫:২৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ভারতের কথা ও কাজের বৈপরীত্যের অভিযোগ তুলে দেশটির কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বলেছেন, লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার এবং অনতিবিলম্বে এর ফলাফল পাওয়া যাবে।

চিফ হুইপের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না, বরং সম্পর্ককে সমতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে চায়। কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি বাংলাদেশের জন্য যুক্তিসঙ্গত অবস্থান। কারণ প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদার। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সংযোগ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা প্রয়োজনীয়। কিন্তু কোনো সহযোগিতা যদি একতরফা সুবিধা তৈরি করে, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে বৈষম্য, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের জনমনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কারণ। এসব বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ বক্তব্য নয়, বাস্তব আচরণেও পারস্পরিক সম্মান ও সমতার প্রতিফলন প্রত্যাশিত।

১০১টি এমওইউ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচিত আবেগ বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে প্রতিটি বিষয় যাচাই করা। প্রয়োজন হলে সংশোধন, পুনঃআলোচনা কিংবা আন্তর্জাতিক আইনসম্মতভাবে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। বিদেশি বিনিয়োগ বা ঋণ বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু তার শর্ত যেন দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে।

বাংলাদেশের বার্তাটি তাই স্পষ্ট হওয়া উচিত ভারত শত্রু নয়, কিন্তু বন্ধুত্বের নামে অসম সম্পর্কও নয়। দুই দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও ন্যায্য স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সর্বাগ্রে থাকবে বাংলাদেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ।