ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দু’দিনের মাথায় ফের ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে উঠে যায়।

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে উঠে যায়। চলতি সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে ওই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে তেল সরবরাহের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকিও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হুথিদের তৎপরতায় বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হয়ে তেল কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এতে দাম আরও বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার নাটকীয়ভাবে বদলেছে। ইরান যুদ্ধের তীব্রতা কমার সম্ভাবনায় একসময় ব্রেন্টের দাম ৭০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল। কিন্তু সংঘাত আবার বাড়তে থাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারী ও সালফারযুক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ বাড়লেও তা পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের হামলা জোরদার

ভূগর্ভে আবার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান

এদিকে তেলের বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সামরিক দিকও নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ব্যাপক হামলার পরও ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন আবার শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজিরসহ একাধিক ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কাজ চলছে। দেশটি মজুত থাকা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। পাশাপাশি নতুন ভূগর্ভস্থ উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ এখনো সীমিত বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের কাঁচামাল ও কঠিন জ্বালানির উপাদান আমদানি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু মজুত থাকা উপাদান ব্যবহার করে ইরান নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারছে।

এর ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এমন দাবিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ভূগর্ভস্থ ও ছড়িয়ে থাকা সামরিক অবকাঠামো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে কতটা টিকে থাকতে পারে, তা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই বদলে দিচ্ছে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সংঘাত দ্রুত থামানো না গেলে তেলের দাম আরও দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে বলে বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে উঠে যায়। চলতি সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে ওই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে তেল সরবরাহের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকিও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হুথিদের তৎপরতায় বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হয়ে তেল কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এতে দাম আরও বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার নাটকীয়ভাবে বদলেছে। ইরান যুদ্ধের তীব্রতা কমার সম্ভাবনায় একসময় ব্রেন্টের দাম ৭০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল। কিন্তু সংঘাত আবার বাড়তে থাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারী ও সালফারযুক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ বাড়লেও তা পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের হামলা জোরদার

ভূগর্ভে আবার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান

এদিকে তেলের বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সামরিক দিকও নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ব্যাপক হামলার পরও ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন আবার শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজিরসহ একাধিক ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কাজ চলছে। দেশটি মজুত থাকা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। পাশাপাশি নতুন ভূগর্ভস্থ উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ এখনো সীমিত বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের কাঁচামাল ও কঠিন জ্বালানির উপাদান আমদানি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু মজুত থাকা উপাদান ব্যবহার করে ইরান নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারছে।

এর ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এমন দাবিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ভূগর্ভস্থ ও ছড়িয়ে থাকা সামরিক অবকাঠামো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে কতটা টিকে থাকতে পারে, তা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই বদলে দিচ্ছে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সংঘাত দ্রুত থামানো না গেলে তেলের দাম আরও দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে বলে বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।