পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতি প্রকৃত মালিকের আগেই ইতালি গেলেন অন্য নারী
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে একই পাসপোর্টের ভিসা ব্যবহার করে ইতালিতে পাঠানোর ঘটনায় সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, মো. সোলাইমান সুমন, ফজলে রাব্বী, মো. তৌহিদুর রহমান ও কাওসার হোসেন।
সিআইডি জানায়, সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার শাখার সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করেন। এ সময় ৫৬টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, ভুক্তভোগী এক নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরে পাসপোর্ট নবায়নের প্রয়োজন হলে দূতাবাসের বাইরে নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেয় এবং কিছু সময়ের জন্য তার পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখে।
পরে ভুক্তভোগীর স্বামী ইতালি যাওয়ার বিমান টিকিট কাটেন। কিন্তু চার সন্তানকে নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে গত ২৪ এপ্রিল অন্য এক নারী ইতোমধ্যে ইতালি চলে গেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশে যাওয়ার আগ্রহীদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করত। পরে কৌশলে তাদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করত। তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রের মূলহোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। একই ধরনের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল ও কম্পিউটারের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।



















