এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি তিতাস এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প-কারখানা ও নগরজীবন
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরিত এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি স্টেশনসহ সব ধরনের গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।
মঙ্গলবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের এ দুর্ভোগ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কোন টার্মিনালে কী ধরনের কারিগরি ত্রুটি হয়েছে বা কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো তথ্য দেয়নি।
তিতাসের আওতাধীন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছে ১৫০ কোটি ঘনফুটেরও নিচে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে। বিশেষ করে সঞ্চালন লাইনের শেষ প্রান্তে থাকা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনের দীর্ঘ সময় গ্যাস থাকে না, কিংবা চুলা জ্বালানোর মতো পর্যাপ্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদনেও। গ্যাসনির্ভর পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক, কাচ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানাকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও উৎপাদনের গতি কমিয়ে দিতে বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যক্রম সীমিত রাখতে হচ্ছে।
আবাসিক গ্রাহকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমণ্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে রান্নার সময় গ্যাস না পাওয়া কিংবা অত্যন্ত কম চাপের অভিযোগ করছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে বিদ্যুচ্চালিত চুলা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে একদিকে পারিবারিক ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এমন কারিগরি ত্রুটি দ্রুতই জাতীয় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।



















