ইলন মাস্ককে ঘিরে চীনা ‘ছদ্মবেশী’ নারী জেনারেল বিতর্ক, আতিথেয়তার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুপ্তচরবৃত্তি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল এবং শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের ওপর নজরদারি চালাতে বেইজিং বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক পোস্টে স্বাধীন ব্লগার জেনিফার জেং দাবি করেছেন, রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তার আড়ালে চীন ছদ্মবেশী সামরিক গোয়েন্দা মোতায়েন করেছিল।
জেংয়ের দাবি অনুযায়ী, বেইজিংয়ে আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী পরিবেশনকারী আসলে সাধারণ কোনো সেবাকর্মী নন। তিনি চীনের সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং পদকপ্রাপ্ত সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবির ভিত্তিতে জেং দাবি করেন, ওই নারীর পরিচয় মেজর চেং চেং, যিনি চীনের একটি বিশেষ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেজর চেং চেং শুধু সামরিক কর্মকর্তা নন, বরং চীনের সামরিক আনুষ্ঠানিকতা ও অপারেশনাল নির্দেশিকা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জেং আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, লাল পোশাকের আড়ালে ওই কর্মকর্তার কাছে গোপন নজরদারি সরঞ্জাম কিংবা অস্ত্রও থাকতে পারে। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো সরাসরি প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
জেনিফার জেং এর আগেও চীনের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি দাবি করেছিলেন, কানাডায় খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হাত ছিল। তার মতে, ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করা এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুর্বল করার লক্ষ্যেই বেইজিং ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল।
তবে বর্তমান অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, তারা জেংয়ের দাবির কোনো স্বাধীন প্রমাণ পায়নি। একই সঙ্গে চীন সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলো পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ অতীতেও চীনের বিরুদ্ধে ছদ্মবেশী গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে “ফ্যাং ফ্যাং” নামে পরিচিত এক নারী গুপ্তচরের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি মার্কিন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, চীনের রাষ্ট্র-সমর্থিত গোয়েন্দারা ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, গবেষক কিংবা সাধারণ কর্মীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কূটনৈতিক মহলে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে চীনের আগ্রহ বাড়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা, এই আতিথেয়তা ও কূটনৈতিক সৌজন্যের আড়ালে কখনও কখনও তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং প্রভাব বিস্তারের মতো গোপন কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হতে পারে।
সূত্র: NDTV



















