দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ, মৃত্যু ৪৯৯, ঢাকায় সর্বোচ্চ ২১০
- আপডেট সময় : ০৮:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
দেশে হামের প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৬৮ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৫ জন এবং হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪১৪ জনের। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের মধ্যে দুই জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি নয় জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। প্রতিদিন মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে এখন পর্যন্ত ২১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে মারা গেছেন ৮১ জন।
এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ৫০ জন, বরিশাল বিভাগে ৪৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, রংপুর বিভাগে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন এবং খুলনা বিভাগে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৯ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৫৪০ জনে।
আক্রান্তদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৫১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩ হাজার ৪১১ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদানে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ হাম প্রতিরোধী টিকা মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।



















