পাকিস্তানে হামলার দুঃসাহস দেখালে ভারতের মানচিত্রই বদলে যাবে: ইসলামাবাদ
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনা, অবিশ্বাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক জটিল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের কঠোর ও কূটনৈতিক ভাষার বক্তব্যে।
তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং ভারতের ভূগোল ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলে যেতে পারে।
জিও নিউজের জনপ্রিয় টকশো ‘ক্যাপিটাল টক’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ভারত বর্তমানে নিজেদের আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে নীতি অনুসরণ করছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান কোনো আগ্রাসনের পক্ষপাতী নয়, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে ইসলামাবাদ কখনোই আপস করবে না।
তার ভাষায়, ভারত যদি আবারও কোনো উসকানিমূলক বা দুঃসাহসিক সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সেই জবাব এমন হবে যা দিল্লিকে বহু বছর মনে রাখতে হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২২ এপ্রিল পহেলগাম হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে শেষ হলেও সেই সময় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দিয়েছিল।
তার দাবি, সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিশ্ববাসীর সামনে নতুনভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
খাজা আসিফ ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেছিলেন, পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভূগোলের অংশ হয়ে থাকতে চায়, নাকি ইতিহাসের অংশ হয়ে হারিয়ে যেতে চায়।
এর জবাবে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা। তার মতে, ভারতীয় সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের “হারানো মর্যাদা” পুনরুদ্ধারের জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদী বক্তব্য ব্যবহার করছে।
তবে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের মধ্যেও খাজা আসিফ কূটনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বরং আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে পারস্পরিক আস্থা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতের অভ্যন্তরেও এমন বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি রয়েছে যারা যুদ্ধ নয়, বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে খাজা আসিফ ভারত ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার দিকেও ইঙ্গিত করেন। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য রক্ষার নামে কিছু রাষ্ট্র নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কাতার, চীন ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশগুলো নতুন কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক তা চায় না।
সবশেষে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় দেশকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অন্যথায়, সংঘাতের আগুন শুধু দুই দেশ নয়, পুরো অঞ্চলকেই অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।


















