নাসিরনগরে উজানের ঢল: তলিয়েছে ৩০০ হেক্টর ধান, দিশেহারা কৃষক
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
উজানের পাহাড়ি ঢল হাওরের কৃষকদের সোনালি স্বপ্নকে মুহূর্তেই ভাসিয়ে নিয়েছে। নাসিরনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে এখন কেবল পানির বিস্তার আর কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ। যে ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, তা আজ পানির নিচে ডুবে আছে, হারিয়ে গেছে তাদের পরিশ্রম, স্বপ্ন আর আনন্দ।
অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরের মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে আরও ২০০ হেক্টরের বেশি বোরো ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ হেক্টরে। পাকা ধান পানির নিচে ডুবে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
ফসল রক্ষায় মরিয়া হয়ে প্রতিদিনই তারা বাড়তি খরচে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে নামছেন। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই কঠিন যে কোথাও বুকসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। কাটা ধানও নতুন বিপদের মুখে-রোদের অভাবে তা শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
গত ২ মে থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা পানি বৃদ্ধির ফলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, গত দুই দিনে হাওরের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জমি পানির নিচে চলে যাচ্ছে।

অনেক কৃষক ধার-দেনা ও উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই ঢলে তাদের সব আশা ভেঙে পড়েছে, অনেকে এখন নিঃস্ব হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাই জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। আগাম পানি আসার আগে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ হেক্টরের ধান ইতোমধ্যে পানির নিচ থেকেই কাটা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। আসন্ন ধান সংগ্রহ মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। বোরো ধান সংগ্রহ মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
হাওরের এই দুর্যোগ কেবল ফসলের ক্ষতিই নয়, কৃষকদের জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন তাদের চোখে একটাই প্রশ্ন এই ক্ষতি পুষিয়ে আবার কীভাবে দাঁড়াবেন তারা?














