ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় : মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের পরিচিতমঙ্গল শোভাযাত্রা নাম পরিবর্তন করেবৈশাখী শোভাযাত্রারাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্তের ফলে বহু বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি পরিচিত নাম বদলে যাচ্ছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনাসমালোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা একে আর মঙ্গল শোভাযাত্রা বা আনন্দ শোভাযাত্রা বলব না।

এর নাম হবেবৈশাখী শোভাযাত্রা মন্ত্রীর মতে, শোভাযাত্রার নাম নিয়ে চলমান বিতর্ক বিভাজন দূর করতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মতভিন্নতা থাকলেও তা বিভাজনে রূপ নেওয়া উচিত নয়। বরং বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনো ধরনের মতভেদ বা সংঘাত চায় না; বরং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করতে চায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত এই শোভাযাত্রা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এটি দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, লোকজ ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

গ্রামীণ কৃষক সমাজের ঐতিহ্য থেকে উৎসারিত এই আয়োজন সময়ের সঙ্গে নগর সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জানান, একাধিক আলোচনা পর্যালোচনার পরই নতুন নামটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন নামের এই শোভাযাত্রা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সর্বজনীনভাবে আয়োজন করা হবে।

এতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, গান, বাদ্যযন্ত্র পোশাকের মাধ্যমে বৈচিত্র্য তুলে ধরতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বৈশাখী মেলার মতো নববর্ষ সংশ্লিষ্ট সব আয়োজনেবৈশাখশব্দটিকে প্রাধান্য দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, মানুষ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক প্রকাশ নিয়ে এতে অংশ নেবে, যা একে আরও উৎসবমুখর সর্বজনীন করে তুলবে।

তবে নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ঐতিহ্যে ছেদ হিসেবে দেখছেন। বছরের পর বছর ধরে রাজপথে যেমঙ্গল শোভাযাত্রামানুষে মানুষে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, তার পরিচিত নাম বদলে যাওয়ায় একধরনের আবেগ নস্টালজিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, এটি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চর্চায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় : মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

আসন্ন বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের পরিচিতমঙ্গল শোভাযাত্রা নাম পরিবর্তন করেবৈশাখী শোভাযাত্রারাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্তের ফলে বহু বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি পরিচিত নাম বদলে যাচ্ছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনাসমালোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা একে আর মঙ্গল শোভাযাত্রা বা আনন্দ শোভাযাত্রা বলব না।

এর নাম হবেবৈশাখী শোভাযাত্রা মন্ত্রীর মতে, শোভাযাত্রার নাম নিয়ে চলমান বিতর্ক বিভাজন দূর করতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মতভিন্নতা থাকলেও তা বিভাজনে রূপ নেওয়া উচিত নয়। বরং বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনো ধরনের মতভেদ বা সংঘাত চায় না; বরং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করতে চায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত এই শোভাযাত্রা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এটি দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, লোকজ ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

গ্রামীণ কৃষক সমাজের ঐতিহ্য থেকে উৎসারিত এই আয়োজন সময়ের সঙ্গে নগর সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জানান, একাধিক আলোচনা পর্যালোচনার পরই নতুন নামটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন নামের এই শোভাযাত্রা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সর্বজনীনভাবে আয়োজন করা হবে।

এতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, গান, বাদ্যযন্ত্র পোশাকের মাধ্যমে বৈচিত্র্য তুলে ধরতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বৈশাখী মেলার মতো নববর্ষ সংশ্লিষ্ট সব আয়োজনেবৈশাখশব্দটিকে প্রাধান্য দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, মানুষ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক প্রকাশ নিয়ে এতে অংশ নেবে, যা একে আরও উৎসবমুখর সর্বজনীন করে তুলবে।

তবে নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ঐতিহ্যে ছেদ হিসেবে দেখছেন। বছরের পর বছর ধরে রাজপথে যেমঙ্গল শোভাযাত্রামানুষে মানুষে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, তার পরিচিত নাম বদলে যাওয়ায় একধরনের আবেগ নস্টালজিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, এটি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চর্চায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।