ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা ২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দু’দিনের মাথায় ফের ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

ইউনূস সরকারের চুক্তিগুলো ঘতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

ইউনূস সরকারের চুক্তিগুলো ঘতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পাদিত দেশি-বিদেশি চুক্তিগুলো নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আগের সিদ্ধান্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতেই হবে।

ড. দেবপ্রিয়ের মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে সুস্পষ্ট কৌশলপত্র উপস্থাপন করতে না পারা। শেষ পর্যায়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা নীতিনির্ধারণে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ফলে সংস্কারের রূপরেখা, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশল-সবই থেকে গেছে অস্পষ্টতায়। তিনি বলেন, নতুন সরকার যদি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনায় উদ্যোগী হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারও সমন্বিতভাবে যাচাই করা যুক্তিযুক্ত হবে।

এ প্রেক্ষাপটে একটি স্বতন্ত্র ট্রানজিশন টিম গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে করে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিমার্জনের সুপারিশ করা যায়। জানা গেছে, এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত জানা-অজানা সব চুক্তির বিষয়বস্তু, আর্থিক দায়বদ্ধতা ও কৌশলগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-দর্শন ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাস বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

নতুন সরকারের জন্য তিনি ধৈর্য ও বাস্তবতাবোধের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় এসেই স্প্রিন্ট  না করে দীর্ঘমেয়াদি ‘ম্যারাথন’ ভাবনায় এগোনো উচিত। অন্তত ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের আগে তড়িঘড়ি বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বদলে প্রস্তুতি, মূল্যায়ন ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইউনূস সরকারের চুক্তিগুলো ঘতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয়

আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পাদিত দেশি-বিদেশি চুক্তিগুলো নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আগের সিদ্ধান্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতেই হবে।

ড. দেবপ্রিয়ের মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে সুস্পষ্ট কৌশলপত্র উপস্থাপন করতে না পারা। শেষ পর্যায়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা নীতিনির্ধারণে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ফলে সংস্কারের রূপরেখা, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশল-সবই থেকে গেছে অস্পষ্টতায়। তিনি বলেন, নতুন সরকার যদি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনায় উদ্যোগী হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারও সমন্বিতভাবে যাচাই করা যুক্তিযুক্ত হবে।

এ প্রেক্ষাপটে একটি স্বতন্ত্র ট্রানজিশন টিম গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে করে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিমার্জনের সুপারিশ করা যায়। জানা গেছে, এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত জানা-অজানা সব চুক্তির বিষয়বস্তু, আর্থিক দায়বদ্ধতা ও কৌশলগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-দর্শন ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাস বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

নতুন সরকারের জন্য তিনি ধৈর্য ও বাস্তবতাবোধের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় এসেই স্প্রিন্ট  না করে দীর্ঘমেয়াদি ‘ম্যারাথন’ ভাবনায় এগোনো উচিত। অন্তত ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের আগে তড়িঘড়ি বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বদলে প্রস্তুতি, মূল্যায়ন ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।