বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার–প্রচারণা যখন চরমে, ঠিক তখনই দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া সাম্প্রদায়িক ও সংবিধানবিরোধী বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যকে ঘিরে সংখ্যালঘু অধিকার, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর প্রথম দিন।
বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে আয়োজিত জামায়াতের জনসভায় আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি আল–কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে রাষ্ট্রীয় সংবিধান অস্বীকার করেন এবং শরিয়াভিত্তিক দণ্ডবিধির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়ার শাসন চালু হলে অপরাধ থাকবে না। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি তুলে ধরে তিনি সংসদে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অগ্রহণযোগ্য বলেও ইঙ্গিত দেন।
তবে বিতর্কিত বক্তব্যের দায় নিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। বরগুনা–২ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, আফজাল হোসেন জামায়াতের পুরোনো কেউ নন। তাঁর ভাষায়, তিনি আবেগে কথা বলেছেন। আমাদের কোনো নেতা এ ধরনের বক্তব্য দেননি।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে যোগদান একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়, নির্বাচনী মঞ্চে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় তা কার্যকর হয় না।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম, রাষ্ট্র ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।



















