ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রান্তিক নারীদের আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে: বিএনপিএস নদী ভাঙনের হুমকিতে মধ্যনগরের মহিষখলা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ট্রাম্প-পুতিনের ফোন আলোচনা ইরান যুদ্ধ ও তেল বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ কমার একদিন পরই বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে বেড়েছে ৩,২৬৬ টাকা বিশ্ব ঐতিহ্যের জামদানি বুনেও কষ্টের জীবন রূপগঞ্জের তাঁতিদের ফ্যামিলি কার্ড নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে: সিপিডি ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারপ্রচারণা যখন চরমে, ঠিক তখনই দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া সাম্প্রদায়িক সংবিধানবিরোধী বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যকে ঘিরে সংখ্যালঘু অধিকার, সংবিধান গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর প্রথম দিন।

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে আয়োজিত জামায়াতের জনসভায় আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি আলকোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে রাষ্ট্রীয় সংবিধান অস্বীকার করেন এবং শরিয়াভিত্তিক দণ্ডবিধির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়ার শাসন চালু হলে অপরাধ থাকবে না। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি তুলে ধরে তিনি সংসদে সংখ্যালঘু ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অগ্রহণযোগ্য বলেও ইঙ্গিত দেন।

তবে বিতর্কিত বক্তব্যের দায় নিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। বরগুনা আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, আফজাল হোসেন জামায়াতের পুরোনো কেউ নন। তাঁর ভাষায়, তিনি আবেগে কথা বলেছেন। আমাদের কোনো নেতা ধরনের বক্তব্য দেননি।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে যোগদান একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়, নির্বাচনী মঞ্চে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় তা কার্যকর হয় না।

নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম, রাষ্ট্র সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারপ্রচারণা যখন চরমে, ঠিক তখনই দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া সাম্প্রদায়িক সংবিধানবিরোধী বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যকে ঘিরে সংখ্যালঘু অধিকার, সংবিধান গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর প্রথম দিন।

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে আয়োজিত জামায়াতের জনসভায় আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি আলকোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে রাষ্ট্রীয় সংবিধান অস্বীকার করেন এবং শরিয়াভিত্তিক দণ্ডবিধির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়ার শাসন চালু হলে অপরাধ থাকবে না। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি তুলে ধরে তিনি সংসদে সংখ্যালঘু ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অগ্রহণযোগ্য বলেও ইঙ্গিত দেন।

তবে বিতর্কিত বক্তব্যের দায় নিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। বরগুনা আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, আফজাল হোসেন জামায়াতের পুরোনো কেউ নন। তাঁর ভাষায়, তিনি আবেগে কথা বলেছেন। আমাদের কোনো নেতা ধরনের বক্তব্য দেননি।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে যোগদান একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়, নির্বাচনী মঞ্চে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় তা কার্যকর হয় না।

নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম, রাষ্ট্র সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।