ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিচ্যুত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষককে অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা বা একাডেমিক ফ্রিডম দীর্ঘদিন ধরেই চরম সংকটে রয়েছে। ক্ষমতাবান গোষ্ঠী বলপ্রয়োগ ও চাপের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণার পরিপন্থি।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সেই মূল্যবোধ ধ্বংসের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল স্বাধীন মতপ্রকাশের কারণে শিক্ষকরা হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইউএপির দুই শিক্ষক তারই সর্বশেষ শিকার।

গত রোববার ইউএপি কর্তৃপক্ষ বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান এ এস এম মোহসীনকে চাকরিচ্যুত করে। শিক্ষার্থীরা লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে ‘হিজাব পরায় ছাত্রীকে হেনস্তা’ এবং মোহসীনের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ তোলে।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, লায়েকা বশীর একটি আভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার। তদন্তের আগেই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তারা বেআইনি ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে দঙ্গলবাজ শিক্ষার্থী ও তাদের চাপের মুখে নতি স্বীকারকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

সংগঠনটি এই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করে। সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দুই শিক্ষককে পুনর্বহাল, আইনের শাসন নিশ্চিত, দঙ্গলবাজদের শাস্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা রক্ষা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ শিক্ষক নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের

আপডেট সময় : ০৭:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিচ্যুত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষককে অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা বা একাডেমিক ফ্রিডম দীর্ঘদিন ধরেই চরম সংকটে রয়েছে। ক্ষমতাবান গোষ্ঠী বলপ্রয়োগ ও চাপের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণার পরিপন্থি।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সেই মূল্যবোধ ধ্বংসের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল স্বাধীন মতপ্রকাশের কারণে শিক্ষকরা হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইউএপির দুই শিক্ষক তারই সর্বশেষ শিকার।

গত রোববার ইউএপি কর্তৃপক্ষ বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান এ এস এম মোহসীনকে চাকরিচ্যুত করে। শিক্ষার্থীরা লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে ‘হিজাব পরায় ছাত্রীকে হেনস্তা’ এবং মোহসীনের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ তোলে।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, লায়েকা বশীর একটি আভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার। তদন্তের আগেই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তারা বেআইনি ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে দঙ্গলবাজ শিক্ষার্থী ও তাদের চাপের মুখে নতি স্বীকারকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

সংগঠনটি এই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করে। সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দুই শিক্ষককে পুনর্বহাল, আইনের শাসন নিশ্চিত, দঙ্গলবাজদের শাস্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা রক্ষা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ শিক্ষক নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।