একাত্তর বাদ দিলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না, বাম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ইতিহাস ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই একটি জাতির পরিচয় গড়ে ওঠে, আর সেই পরিচয়ের মূলভিত্তি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং পারস্পরিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সময়টি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশ আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যেতে পারে। তাই দল-মত নির্বিশেষে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সাক্ষাৎকালে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাম দলগুলোর নেতারা জানান, তারেক রহমান বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে তারেক রহমান একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে। এজন্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, আমি নিজেও ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই বলে আসছি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই আমাদের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। কাজেই একাত্তরের চেতনার সঙ্গে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, সেগুলোকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগোতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই ধারাবাহিক গণআন্দোলনগুলোই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সাম্যভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হবে।



















