ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া ঠেকাতে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নাহিদ রানার ঝড়ো বোলিংয়ে পাকিস্তান পুড়ল, ২০৯ বল বাকি রেখে জয় বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কয়লার পাহাড়, আগুনে নষ্ট হচ্ছে বিপুল মজুদ সূর্যমুখীর হলুদ হাসিতে ভরেছে টাঙ্গাইলের মাঠ, স্বপ্ন দেখছেন কৃষক ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, শপথ নেবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার ভোলার চরাঞ্চলে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ: কৃষকের স্বপ্নে অর্থনৈতিক মুক্তির সম্ভাবনা প্রান্তিক নারীদের আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে: বিএনপিএস নদী ভাঙনের হুমকিতে মধ্যনগরের মহিষখলা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ট্রাম্প-পুতিনের ফোন আলোচনা ইরান যুদ্ধ ও তেল বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের

খালেদা জিয়ার জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ উপচে পড়া জনসমুদ্র

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

খালেদা জিয়ার জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ উপচে পড়া জনসমুদ্র

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ লোকসমাগমের সাক্ষী হলো রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের ঢল নামে জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশজুড়ে। ভোর থেকেই শোকাহত মানুষের স্রোতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।

খালেদা জিয়ার জানাজায় কত মানুষ উপস্থিত—এই প্রশ্নের কোনো পরিমাপযোগ্য উত্তর নেই। উপস্থিত জনতার ভাষায় একটাই শব্দ যথার্থ—অগণন। ঢাকা মহানগরী ছাড়াও আশপাশের জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে।

বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার কিছু পরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করে পতাকায় মোড়ানো খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়িবহর। তার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় ভরে ওঠে। কেউ বাসে, কেউ মাইক্রোবাসে, কেউ আবার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে জানাজাস্থলে পৌঁছান। সবার উদ্দেশ্য এক—দেশনেত্রীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানো।

জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে আসতে থাকেন। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহন আটকে পড়ায় অনেকেই কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে জানাজাস্থলে উপস্থিত হন। দুপুর ২টায় জানাজার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে।

জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও নেতাকর্মীরা
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও নেতাকর্মীরা

এর আগে সকালে গুলশানে তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয় খালেদা জিয়ার মরদেহ। সেখানে পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মায়ের কফিনের পাশে বসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শোকাবহ সেই মুহূর্তে পুরো বাসভবনজুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিতে ঢাকায় পৌঁছান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি তারেক রহমানের কাছে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা পৌঁছে দেন। এই উপস্থিতি শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে।

জানাজা শেষে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর চন্দ্রিসা উদ্যানে, ক্রিসেন্ট লেকের তীরে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে স্বামীর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দেশনেত্রীর চিরবিদায়ে শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে—রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে খালেদা জিয়া ছিলেন এক গভীর আবেগ ও ইতিহাসের নাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খালেদা জিয়ার জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ উপচে পড়া জনসমুদ্র

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ লোকসমাগমের সাক্ষী হলো রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের ঢল নামে জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশজুড়ে। ভোর থেকেই শোকাহত মানুষের স্রোতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।

খালেদা জিয়ার জানাজায় কত মানুষ উপস্থিত—এই প্রশ্নের কোনো পরিমাপযোগ্য উত্তর নেই। উপস্থিত জনতার ভাষায় একটাই শব্দ যথার্থ—অগণন। ঢাকা মহানগরী ছাড়াও আশপাশের জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে।

বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার কিছু পরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করে পতাকায় মোড়ানো খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়িবহর। তার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় ভরে ওঠে। কেউ বাসে, কেউ মাইক্রোবাসে, কেউ আবার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে জানাজাস্থলে পৌঁছান। সবার উদ্দেশ্য এক—দেশনেত্রীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানো।

জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে আসতে থাকেন। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহন আটকে পড়ায় অনেকেই কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে জানাজাস্থলে উপস্থিত হন। দুপুর ২টায় জানাজার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে।

জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও নেতাকর্মীরা
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও নেতাকর্মীরা

এর আগে সকালে গুলশানে তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয় খালেদা জিয়ার মরদেহ। সেখানে পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মায়ের কফিনের পাশে বসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শোকাবহ সেই মুহূর্তে পুরো বাসভবনজুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিতে ঢাকায় পৌঁছান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি তারেক রহমানের কাছে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা পৌঁছে দেন। এই উপস্থিতি শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে।

জানাজা শেষে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর চন্দ্রিসা উদ্যানে, ক্রিসেন্ট লেকের তীরে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে স্বামীর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দেশনেত্রীর চিরবিদায়ে শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে—রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে খালেদা জিয়া ছিলেন এক গভীর আবেগ ও ইতিহাসের নাম।