ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

১৭ বছর পর খালি পায়ে মাতৃভূমির মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

১৭ বছর পর খালি পায়ে মাতৃভূমির মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২৫ ডিসেম্বর-বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনেরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে। নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় পৌঁছায় তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি।

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে নেওয়া হয় তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিমান থেকে নেমেই তিনি পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। আবেগঘন সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত তার শাশুড়ি তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।

বিমানবন্দরের আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে সিআইপি গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন তারেক রহমান। এরপরই ঘটান এক অনন্য ও হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য—ফুলবাগানে গিয়ে জুতা খুলে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশের মাটিতে। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেগ যেন সেই মুহূর্তে ভাষা খুঁজে পায়। প্রিয় মাতৃভূমিকে স্পর্শ করার বহুদিনের আকুলতা সেদিন যেন পূর্ণতা পায়।

এরপর সেনাসদস্যদের বেষ্টনিতে একটি বাসে চড়ে সংবর্ধনাস্থল ৩০০ ফুটের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথে হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারেক রহমান। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে এগিয়ে যান তিনি, আর জনতার কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে স্বাগত জানানো স্লোগান।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে বলে আয়োজকদের দাবি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে বরণ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল এক বিরল ও স্মরণকালের ঘটনা।

প্রিয় স্বদেশে ফেরার আনন্দ, দীর্ঘদিনের জমাট স্মৃতি, চেপে রাখা না-বলা কথা আর স্মিত হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবেগ—সব মিলিয়ে পুরো পরিবেশ ছিল আনন্দঘন ও আবেগময়। দীর্ঘ নির্বাসনের পর মাতৃভূমির মাটিতে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান যেন সেই আকুলতারই নীরব প্রকাশ ঘটালেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৭ বছর পর খালি পায়ে মাতৃভূমির মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০১:৪০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

২৫ ডিসেম্বর-বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনেরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে। নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় পৌঁছায় তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি।

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে নেওয়া হয় তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিমান থেকে নেমেই তিনি পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। আবেগঘন সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত তার শাশুড়ি তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।

বিমানবন্দরের আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে সিআইপি গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন তারেক রহমান। এরপরই ঘটান এক অনন্য ও হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য—ফুলবাগানে গিয়ে জুতা খুলে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশের মাটিতে। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেগ যেন সেই মুহূর্তে ভাষা খুঁজে পায়। প্রিয় মাতৃভূমিকে স্পর্শ করার বহুদিনের আকুলতা সেদিন যেন পূর্ণতা পায়।

এরপর সেনাসদস্যদের বেষ্টনিতে একটি বাসে চড়ে সংবর্ধনাস্থল ৩০০ ফুটের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথে হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারেক রহমান। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে এগিয়ে যান তিনি, আর জনতার কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে স্বাগত জানানো স্লোগান।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে বলে আয়োজকদের দাবি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে বরণ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল এক বিরল ও স্মরণকালের ঘটনা।

প্রিয় স্বদেশে ফেরার আনন্দ, দীর্ঘদিনের জমাট স্মৃতি, চেপে রাখা না-বলা কথা আর স্মিত হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবেগ—সব মিলিয়ে পুরো পরিবেশ ছিল আনন্দঘন ও আবেগময়। দীর্ঘ নির্বাসনের পর মাতৃভূমির মাটিতে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান যেন সেই আকুলতারই নীরব প্রকাশ ঘটালেন।